প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আগামী ফেব্রুয়ারির আগেই সুষ্ঠুভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে ভোট কারচুপির বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আগামী ভোটে অস্ত্রবাজি করার যারা চিন্তা করছে তাদের জন্য দুঃসংবাদ রয়েছে। কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। গতকাল শনিবার সকালে রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এসব কথা বলেন। সিইসি এ সময় বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ আসলে তিনি চেয়ার ছেড়ে দেবেন।
সিইসি এ সময় আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করার বিষয়ে কমিশনের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পিআর পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বিতর্কে কমিশন জড়াবে না।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘বিগত নির্বাচনে যারা অনিয়ম করেছিল, সেসব নির্বাচন কর্মকর্তাদের রাখা হবে না। নির্বাচন কমিশনের অধীনে ৫ হাজার ৭০০ কর্মকর্তা রয়েছেন। তারা আগেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এদের কোথায় পাঠাব?’
সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন হবে কি, হবে না, এ নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের ভেতর আমরা যেতে চাই না। প্রধান উপদেষ্টার চিঠি পাওয়ার পর থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানের আগে যাতে নির্বাচন হয়, তার জোর প্রস্তুতি চলছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ হয়ে গেছে। ভোটের জন্য কেনাকাটা এগিয়ে চলছে।’
তিনি বলেন, ‘সীমানা নির্ধারণের খসড়া প্রকাশ করেছি। আগামী রবিবার থেকে নির্বাচনী সীমানার শুনানি শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুনানি চলবে।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, ‘ভোট আসতে আসতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। যারা বাক্স দখল করার স্বপ্নে বিভোর, তাদের স্বপ্নভঙ্গ হবে। যারা অস্ত্রবাজি করে ভোটে জিততে চাইবেন তাদের জন্য দুঃসংবাদ। ভোটকেন্দ্র দখলের ইতিহাস ভুলে যান। আমরা কঠোর অবস্থানে থাকব। ভোটকেন্দ্র দখল করলে পুরো ভোট বাতিল করা হবে।’
এ এম এম নাসির উদ্দিন আরও বলেন, ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স নয়, সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমরা কাজ করছি। সেনাবাহিনী যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত হয় সেই ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপার যারা এর আগে নির্বাচনের দায়িত্বে ছিল, তাদের নির্বাচনে পদায়নের চিন্তা নেই।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কোনো তথ্য নিশ্চিত না হয়ে তা শেয়ার না করার আহ্বান জানান। পরে তিনি রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন।