ড. ইউনূস-ইসহাক বৈঠক

সার্ক পুনরুজ্জীবনে গুরুত্ব দুই দেশের

পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার গতকাল রবিবার স্টেট গেস্ট হাউজ যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিনিময় কর্মসূচি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উপ-প্রধানমন্ত্রী দার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শেহবাজ শরিফের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। জবাবে অধ্যাপক ইউনূসও উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান এবং প্রধানমন্ত্রী শরিফের সঙ্গে অতীত বৈঠকের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিবার আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছে, আমরা সার্ক নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এক, সার্ক আমাদের উভয়ের জন্যই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়।’

অধ্যাপক ইউনূস আঞ্চলিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, ‘বাংলাদেশ পাকিস্তানসহ সব সার্কভুক্ত দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।’

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের সম্ভাবনার প্রসঙ্গে দার বলেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের দুই অর্থনীতি পরস্পরের পরিপূরক। এখানে অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি।’

কানেক্টিভিটি উন্নয়নের বিষয়ে তিনি জানান, অক্টোবরের মধ্যেই পাকিস্তানের এয়ারলাইন ফ্লাই জিন্নাহ ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে। এছাড়া পিআইএ-ও বেসরকারিকরণের পর ঢাকা রুটে নতুন করে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে।

সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘যখন পাকিস্তানি শিল্পীরা বাংলাদেশে গান পরিবেশন করেন, সবাই তাদের প্রতিভার প্রশংসা করে। এই চেতনার ওপরই আমাদের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।’

পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী দারিদ্র্য বিমোচনে অধ্যাপক ইউনূসের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সৌভাগ্যবান যে আপনার মতো একজন সরকারপ্রধান পেয়েছে যিনি সারা বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করেন।’

ঢাকা সফরে তিনি বাংলাদেশের জ্বালানি ও বাণিজ্যবিষয়ক উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন এবং একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ১৩ বছর পর কোনো পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উভয় নেতা বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়াকে আরও স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীও উপস্থিত ছিলেন।