কালভার্ট ভেঙে মাটি ভরাটের চেষ্টা বিএনপি নেতার, বন্ধ করল পুলিশ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে একটি কালভার্ট ভেঙে মাটি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। পরে এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।

গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের নাউরী গ্রামের ইকোরিয়া কান্দায় এলজিইডির সড়কে থাকা একটি কালভার্ট ভেঙে মাটি ভরাটের কাজ করছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ ইমদাদুল হক মিলন। ওই সময় ঈশ্বরগঞ্জ এলজিইডি অফিসের কমিউনিটি অর্গানাইজার (সিও) নাঈমকে সেখানে দেখা যায়। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি দেখতে এসেছি, বিস্তারিত স্যার বলতে পারবেন।’

এলাকাবাসী জানান, কালভার্টটি দিয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় হাজারখানেক কৃষকের কয়েকশ একর জমির পানি নিষ্কাশন হয়। পানি নিষ্কাশন বন্ধ হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কয়েকশ একর জমির ফসলসহ পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে নাউরী, ইকোরিয়া কান্দা, নয়াপাড়াসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম।

নাউরী গ্রামের কৃষক শাহজাহান ম-ল বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে এই কালভার্ট দিয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের পানি নিষ্কাশন চলমান রয়েছে। হঠাৎ করে কালভার্টের সামনের জমিতে বিএনপি নেতা শেখ ইমদাদুল হক মিলন মাটি ভরাটের চেষ্টা করেন। গতকাল সকাল থেকে তার লোকজন মাটি ভরাট ও কালভার্ট ভাঙা শুরু করেন। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ এসে মাটি ভরাট ও কালভার্ট ভাঙার কাজ বন্ধ করেন।

শেখ ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘জমিটি মাসখানেক আগে কিনেছি। বাড়ি নির্মাণ করতে সেখানে মাটি ভরাটের কাজ চলছে।’

কালভার্ট ভাঙার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এলজিইডি অফিসের অনুমতি নিয়েছি। এলজিইডি অফিস অবগত।’

উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোজ্জাম্মেল হোসেন বলেন, ‘আমি কালভার্ট ভাঙার বিষয়টি শুনে সেখানে কমিউনিটি অর্গানাইজারকে পাঠিয়েছি। ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় মাটি ভরাটের বিষয়ে আমি তো তাকে কিছু বলতে পারিনি।

তবে তাকে আমি পানি নিষ্কাশন প্রবাহ ঠিক রেখে কাজ করতে বলেছি। কালভার্ট ভাঙার কথা বলিনি।’

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি ওবায়দুর রহমান জানান, সরকারি রাস্তা কেটে ও স্থানীয় কৃষিজমির পানি নিষ্কাশনের কালভার্ট ভেঙে মাটি ভরাটের বিষয়ে এলাকা থেকে ৯৯৯-এ কল আসে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে কাজ বন্ধ করে আসে।