শচিন ও ক্যালিসকে ছাড়াই দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধোত্তর বিশ্ব টেস্ট একাদশ

ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ কপালে তুলে দিয়েছে সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) রেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধোত্তর বিশ্ব টেস্ট একাদশ। আশ্চর্যজনকভাবে এখানে নেই আধুনিক ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকার এবং জ্যাক ক্যালিসের নাম!

১৯৮৭ সাল থেকে আইসিসি চালু করে প্লেয়ার রেটিং সিস্টেম। যা শুধুমাত্র রান বা উইকেট নয়, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং প্রতিপক্ষের গুণগত অবস্থানও বিবেচনায় এনে কোনো খেলোয়াড়ের র‌্যাংকিং নির্ধারণ করে। সর্বোচ্চ রেটিং ১০০০ হলেও ৯০০+ রেটিংই সর্বোৎকৃষ্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অলরাউন্ডারদের জন্য ব্যাটিং ও বোলিং রেটিং গুণ করে ১০০০ দিয়ে ভাগ করে হিসাব করা হয়। এই বিশ্লেষণটি পূর্ববর্তী খেলোয়াড়দের তথ্যেও প্রয়োগ করে দেখানো হয়েছে যুদ্ধোত্তর কোন খেলোয়াড়রা নৈপুণ্যের দিক দিয়ে ছিলেন শীর্ষে।

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধোত্তর বিশ্ব টেস্ট একাদশ

ব্যাটিং লাইনআপ

স্যার লেন হাটন: ইংল্যান্ডের এই মহারথী ৭৯ টেস্টে ৬৯৭১ রান করে রেটিং চার্টে শীর্ষে।

ম্যাথু হেইডেন: অস্ট্রেলিয়ার ভয়ঙ্কর ওপেনার, যিনি ১০৩ টেস্টে করেছেন ৮৬২৫ রান।

ডন ব্র্যাডম্যান: সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাটার, যিনি পেয়েছিলেন সর্বোচ্চ ৯৬১ রেটিং।

রিকি পন্টিং: অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক, টপ-৪ র‌্যাংকে জায়গা করে নেন।

স্টিভ স্মিথ: আধুনিক সময়ের ব্যাটিং বিস্ময়, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেটিংধারী।

সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার

স্যার গ্যারি সোবার্স: ৯৩ টেস্টে ৮০৩২ রান ও ২৩৫ উইকেট। ব্যাটিং-বোলিং মিলিয়ে রেটিংয়ে তিনি সবার ওপরে।

উইকেটকিপার

এবি ডি ভিলিয়ার্স: ব্যাটসম্যান হিসেবেই কিংবদন্তি, তবে উইকেটকিপিংয়ের কারণে এই দলে জায়গা পেয়ে গেছেন।

পেস আক্রমণ

ইমরান খান: পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক, ৮৮ টেস্টে ৩৬২ উইকেট।

প্যাট কামিন্স: বর্তমান অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক, ৭১ টেস্টে ৩০৯ উইকেট নিয়ে শীর্ষ পাঁচে।

গ্লেন ম্যাকগ্রা: সর্বকালের র‌্যাংকিংয়ে যৌথভাবে পাঁচে। ১২৪ টেস্টে ২১.৬৪ গড়ে তার শিকার সংখ্যা ৫৬৩টি।

স্পিন আক্রমণ

মুত্তিয়া মুরালিধরন: টেস্টে ৮০০ উইকেট শিকারী একমাত্র বোলার আছেন ৯২০ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে।

এই দলে জায়গা হয়েছে যাদের, তাদের বাছাই করা হয়েছে কেবল পরিসংখ্যান ও আইসিসি রেটিংয়ের নির্ভরযোগ্য হিসাব মেনে। ফলে শচিন বা ক্যালিসের মতো মহীরুহ বাদ পড়লেও ইতিহাস-ভিত্তিক নিরপেক্ষ রেটিং বিশ্লেষণে শীর্ষে উঠে এসেছেন অন্যরা। এই তালিকা ব্যক্তিত্ত্ব নয়, বরং একটি কোয়ান্টিটেটিভ ও পরিমাপযোগ্য দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে। এই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব টেস্ট একাদশ প্রমাণ করে ক্রিকেট শুধু আবেগ নয়, কঠোর পরিসংখ্যানেরও খেলা। যুগ বদলালেও ব্যাট-বলের লড়াইয়ে কারা আসল কিংবদন্তি—তার উত্তরে রেটিং কারো নাম বিচার করে না।