‘স্কুলেই আছে আগামী দিনের তামিম-সাকিব-মুশফিকরা’

পঞ্চপাণ্ডবের যুগ শেষে বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটা শূন্যতা চলছে। মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম কিংবা মাহমুদউল্লাহদের বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি। গত এক যুগ জাতীয় দলের পাইপলাইন তৈরি করতে পারেনি বিসিবি। যে পাইপলাইন ধরে তৃণমূল থেকে ক্রিকেটার উঠে আসতে পারে। এবার প্রতিভা তুলে আনার কাজটিতে ব্যাপক জোর দিয়েছে বিসিবি।

ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের শীর্ষ ক্রিকেট খেলুড়ে অনেক দেশেই স্কুল ক্রিকেটের কাঠামো বেশ শক্ত। তাদের ক্রিকেটার উঠে আসে তৃণমূল থেকে। বিসিবিও বছরের পর বছর ধরে প্রাইম ব্যাংকের সহায়তায় স্কুল ক্রিকেট আয়োজন করে আসছে। তবে জাতীয় দলে পাইপলাইনে সেটা খুব একটা ভূমিকা রাখতে পারছে না। তাই এখন থেকে স্কুল ক্রিকেট নতুন রূপে শুরু করার কথা জানালেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে আঞ্চলিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধনে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী দিনের তামিম-সাকিব-মুশফিক-রিয়াদ, এরা সবাই স্কুলে আছে। এটা আমাদের কাজ, আমাদের দায়িত্ব যে, প্রতিভাগুলোকে আমরা কীভাবে বের করে নিয়ে আসব। স্কুল ক্রিকেট অনেক দিন ধরে হচ্ছে। কিন্তু আমরা এবার নতুন উদ্যোগে নতুনভাবে আমরা স্কুল ক্রিকেট করব। সেখানে শুধু স্কুল ক্রিকেটে ওরা খেলবেই না, সেখান থেকে দেশজুড়ে ক্রিকেট ভক্ত তৈরি করব আমরা এবং দ্বিতীয়ত যেটা হবে, সেখান থেকে আমরা সুপার ট্যালেন্টগুলো বের করে আনব।’

বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ক্রিকেটকে বিকেন্দ্রীকরণের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক টুর্নামেন্টকে সেই পথেই একটি পদক্ষেপ বলা যায়। বিসিবি প্রধান এই টুর্নামেন্টের মূল কৃতিত্ব দিলেন চট্টগ্রামের সন্তান বিসিবি পরিচালক আকরাম খানকে, ‘এটা আইডিয়া পর্যায়ে ছিল এবং সেখান থেকে মাঠে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছে আকরাম খান ও তার দল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, বিকেন্দ্রীকরণ শুধু ক্রিকেটের প্রতিযোগিতামূলক নয়, প্রতিটি জেলার নিজস্ব যে ক্রিকেট সত্তা আছে, সেটা যেন তারা প্রস্ফুটিত করতে পারে, বিভিন্ন উপজেলা থেকে ভালো ক্রিকেটাররা জেলাতে এসে যেন খেলতে পারে, সেই জেলা যেন শুধু একটা ভালো ক্রিকেট দল নয়, বরং একটি ক্রিকেট পরিবার গড়তে পারে, ফিজিও-ট্রেনার ও সব স্টাফদের তৈরি করতে পারে। চট্টগ্রাম এটা শুরু করল, আশা করি অন্যান্য অঞ্চলগুলোতেও এই ধরনের সুন্দর ব্যবস্থাপনা থাকবে।’