চাহিদার তুলনায় বেশি উৎপাদনের কারণে কয়েক মাস ধরে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আলু বিক্রিতে লোকসানের মুখে ছিলেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এবার হিমাগার পর্যায়ে আলুর ন্যূনতম মূল্য ২২ টাকা নির্ধারণ করেছে। এতদিন হিমাগারে আলু ১২-১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো। এখন হিমাগার পর্যায়েই দাম ৭-১০ টাকা বাড়বে। এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়বে। বর্তমানে খুচরায় আলু ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এই দামে আর আলু কিনতে পারবেন না ভোক্তারা।
গত ২৭ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ের নীতি শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে হিমাগার গেটে আলুর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, খুচরা বাজারে আলুর সর্বোচ্চ মূল্য কত হবে, তা সরকার নির্ধারণ করেনি। ফলে, বাজারের ওপরই আলুর চূড়ান্ত দাম নির্ভর করবে।
কারওয়ান বাজারের আলুর আড়তদার জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সরকার দাম নির্ধারণের পরও আলুর দাম সামান্য বেড়েছে। আমরা এখন ১৫.৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করছি। যখন হিমাগার গেটে ২২ টাকা দরে আলু বিক্রি হবে, তখন আমাদের পাইকারি থেকে কিনতে হবে কমপক্ষে ২৪ টাকায়। পরিবহন ও অন্যান্য খরচসহ আমাদের তখন বিক্রি করতে হবে ২৭-২৮ টাকা কেজি দরে। এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়বে এবং দাম কিছুটা বাড়বে, যা স্বাভাবিক।’
ব্যবসায়ীদের মতে, খুচরা বাজারে আলুর দাম ৩৫-৪০ টাকা পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে, সরকার যদি সরবরাহ চেইনের ওপর কঠোর মনিটরিং করে, তাহলে খুচরা পর্যায়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আলুর দাম এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি।
পুরনো দাম ২৫-৩০ টাকা কেজিতেই বিক্রি হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির প্রভাব বোঝা যেতে আরও দুই-তিন দিন সময় লাগতে পারে, কারণ পাইকারি থেকে খুচরা পর্যন্ত সবার কাছে কম দামে কেনা আলুর মজুদ রয়েছে।
এদিকে, সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। সবজি এখনো উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন প্রতি কেজি ১০০-১২০ টাকা, করলা ৯০-১০০, কচুর লতি ৮০-১০০, ঢেঁড়স ৭০-৮০, কচুর মুখি ৮০-৯০, পেঁপে ৩০-৪০, চিচিঙ্গা ও ঝিঙা ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম ২০০-২৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হলেও দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। পেঁয়াজ এখনো ৮০-৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি করা পেঁয়াজের দাম স্থানীয় পেঁয়াজের দামের সমান। ফলে আমদানি দাম কমাতে কোনো ভূমিকা রাখছে না।
কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজের আড়তদার আকাশ বলেন, পাইকারিতে আমদানি করা পেঁয়াজ ৭০-৭২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, আর দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭২ টাকায়। এ কারণে আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে দাম কমাতে পারছে না।
এ ছাড়া ডিম ও মুরগির দাম উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকা কেজি এবং সোনালি মুরগি ৩২০-৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহেও এই দামেই ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে। ব্রয়লার মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকার বেসরকারি খাতে চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে এবং ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। তবে, খুচরা বাজারে চালের দামে কোনো প্রভাব পড়েনি।