পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রমাণ মুছে ফেলছে ইরান!

তেহরানের উত্তরাঞ্চলে একটি পরমাণুবিষয়ক স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার ধ্বংসাবশেষ দ্রুত সরিয়ে ফেলছে ইরান। এর মধ্য দিয়ে সেখানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির যেকোনো প্রমাণ মুছে যেতে পারে বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি নামের একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, গত বুধবার প্রতিষ্ঠানটির এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনগুলো দ্রুত ভেঙে ফেলার উল্লেখযোগ্য তৎপরতা দেখা গেছে। সম্ভবত যেকোনো অভিযুক্ত পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে জাতিসংঘে ইরানের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পায়নি রয়টার্স। অবশ্য ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কথা অস্বীকার করে এসেছে। দেশটির দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে, অস্ত্র তৈরির জন্য নয়।

তেহরানের মোজদেহ পরমাণুবিষয়ক স্থাপনা নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি এমন একসময় এ তথ্য জানিয়েছে, যখন জাতিসংঘের পরমাণু শক্তি সংস্থা তেহরানে পরিদর্শন কার্যক্রম আবার শুরু করার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। ১৩ থেকে ২৪ জুন ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং ২২ জুন ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর এ আলোচনা প্রক্রিয়া থমকে যায়।

চারজন কূটনীতিক বলেছেন, ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আবার আরোপ করার বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি। এসব দেশের অভিযোগ, ২০১৫ সালে সই করা পারমাণবিক চুক্তি ভঙ্গ করেছে ইরান। দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কার্যক্রম থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে ওই চুক্তি করা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি ওয়াশিংটনে দুদিনের সফর শেষে গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুযায়ী পারমাণবিক স্থাপনায় আবার পরিদর্শনের সুযোগ দিতে ইরান বাধ্য। পরিদর্শন কার্যক্রম যত দ্রুত সম্ভব শুরু করা উচিত।