নারীর ফাঁদে ফেলে মুক্তিপণ দাবি গ্রেপ্তার ৭

বগুড়ায় নারীর ফাঁদে ফেলে দুই ব্যক্তিকে একটি ফ্ল্যাটে জিম্মি করে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। খবর পেয়ে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে জিম্মিদের উদ্ধার করে ও তিন নারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা ডিবি পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে শহরের চকসূত্রাপুর শহীদ বিলু সড়কের রহমান ভিলার পাঁচতলা ভবন থেকে জিম্মিদের উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

উদ্ধার করা দুজন হলেন, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার সুহলী ম-লপাড়ার ফজলুর রহমান ও আবদুস ছালাম।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তাররা হলেন, বগুড়া শহরের চকসূত্রাপুর উত্তরপাড়ার কেয়া বেগম, আফসানা মিমি, মহসিন কাজি মিজান, সাবেক কাউন্সিলর মতিন সরকার ও আলোচিত তুফান সরকারের ভাই ওমর সরকার, চকসূত্রাপুর জহুরুল পাড়ার এনামুল হোসেন ওরফে রায়হান, শহরের হাকিরমোড় এলাকার নয়ন হোসেন ও সদরের ঘোড়াধাপ মধ্যপাড়ার কামরুন্নাহার অধরা। জিম্মিদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া ৫ হাজার ১০০ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

ইকবাল বাহার জানান, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার ফজলুর রহমান (৪৪) মাসখানেক আগে তার মেয়ের চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এলে কেয়া বেগমের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোন নম্বর বিনিময় হয়। গত বৃহস্পতিবার সকালে কেয়া ফোন করে ফজলুর রহমানকে বগুড়া শহরের তিনমাথা এলাকায় আসতে বলেন। তিনি এলে কেয়া ও সহযোগীরা তাকে চকসূত্রাপুরের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে আটকে রাখে। কিছুক্ষণ পর তার এক সহযোগীকেও সেখানে ডেকে আটকে রাখা হয়।

ইকবাল বাহার আরও জানান, ভুক্তভোগীদের মারধর করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চক্রটি। জিম্মিদের পরিবার বিষয়টি ডিবিকে জানালে পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে দুজনকে উদ্ধার ও সাতজনকে গ্রেপ্তার করে।