চায়ের দেশে লাল-সবুজ আর কমলার লড়াই

সিলেটের চা বাগানের মনোরম সৌন্দর্যের মধ্যে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। আজ শনিবার থেকে এখানেই শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের ৩ ম্যাচ টি-টোয়েন্টির সিরিজ। এশিয়া কাপ খেলতে আরব আমিরাতে যাওয়ার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতেই ‘অরেঞ্জ’দের ডেকে আনা। একই সঙ্গে মিরপুরের ঘেরাটোপ থেকে ক্রিকেটকে বের করে আনারও প্রচেষ্টা। এশিয়া কাপের দলে নির্বাচকরা ফিরিয়েছেন নুরুল হাসান সোহান ও সাইফ হাসানকে। দেশ ছাড়ার আগে এই দুজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে কেমন করেন তার একটা পরীক্ষাই হবে নেদারল্যান্ডস সিরিজ। সেই সঙ্গে জুলিয়ান উডের পাওয়ার হিটিং-এর তালিমটাই বা কেমন হলো, তারও প্রমাণ পাওয়া যাবে হাতেনাতে। এই সময়টায় ভারতের বিপক্ষে সিরিজ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু বিসিসিআই সেই সিরিজ বছর দেড়েক পিছিয়ে দিয়ে অবেলার অতিথির মতো ডেকে আনা হয়েছে নেদারল্যান্ডসকে। যে দলটা ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল রীতিমতো বলে-কয়ে। ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও কানের পাশ দিয়ে গেছে গুলি, মাত্র ৯ রানে ডাচদের হারায় বাংলাদেশ। কমলা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৫ দেখায় ৪ জয়, ১ হার।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয় দলের আগেই খেলেছে নেদারল্যান্ডস! ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই মাঠের দ্বিতীয় ম্যাচেই ডাচরা মুখোমুখি হয়েছিল আরব আমিরাতের, যে ম্যাচটা তারা জিতেছিল ৬ উইকেটে। তবে এই মাঠে ডাচদের সবচেয়ে স্মরণীয় কীর্তি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০১৪ সালেই তারা আইরিশদের ১৮৯ রান তাড়া করে জিতেছিল ১৩.৫ ওভারে! সেই দলের কেউই অবশ্য এখন আর নেই নেদারল্যান্ডস দলে। তবে অসম্ভবকে সম্ভব করার আত্মবিশ্বাসটা ঠিকই আছে, অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস তো হারিয়েই দিতে চান বাংলাদেশকে, ‘অবশ্যই বিশ্বাস করি, সিরিজ জিততে পারব। প্রতিটি সিরিজে জেতার জন্যই খেলি। আমরা আশা করি, ভালো ক্রিকেট খেলব। যদি যথেষ্ট ভালো খেলতে পারি, তাহলে আমাদের একটা সুযোগ থাকবে। দলের সবার মধ্যে একটা বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। আমরা অনেক বেশি স্নায়ুচাপের ম্যাচ খেলেছি বিশ্বকাপ ও বাছাইয়ে। আমাদের যে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, তা দেখিয়ে দেয়, নিজেদের দিনে যে কাউকে হারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আছে।’

ডাচ দলের কোচ রায়ান কুক একটা সময় বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং কোচ ছিলেন, যার বিদায়টা ভালোভাবে হয়নি। নেদারল্যান্ডসের দায়িত্বে আসার পর তার অধীনে ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে হারিয়েছে কমলা বাহিনী, কুক জানালেন টি-টোয়েন্টিতে তিনি বাংলাদেশের কাছ থেকে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতাই আশা করছেন, ‘আমি মনে করি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এমন একটা ফরম্যাট যেখানে যেকোনো দল যে কাউকে হারিয়ে দিতে পারে, জিততে পারে। সম্প্রতি তারা (বাংলাদেশ) ভালো ক্রিকেট খেলছে। কিন্তু ওই সিরিজগুলো এটাও দেখিয়েছে তাদেরও দুর্বলতা আছে। আমরা এখানে ভালো একটা আত্মবিশ্বাস নিয়েই এসেছি যে আমরা ভালো একটা ম্যাচ খেলতে পারব। আমরা জানি বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলে আমাদের চ্যালেঞ্জ জানাবে।’ কুক সোজাসাপ্টা বলেই দিয়েছেন, ‘আমরা যদি মনে করতাম আমরা জিততে পারব না, তাহলে আমরা এখানে আসতাম না।’ অন্যদিকে বাংলাদেশের কোচ ফিল সিমন্স হারলে অখুশি নন, ‘যদি আমরা ভালো খেললেও তারা আমাদের হারিয়ে দেয় তখন প্রশংসাটা তাদের প্রাপ্য। কার কাছে হারছি তা নিয়ে আমরা ভাবছি না।’

ঘরের মাঠ, দীর্ঘ প্রস্তুতি, সামনে মহাদেশীয় প্রতিযোগিতা আর পেছনে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব। আত্মবিশ্বাসটা তুঙ্গেই থাকার কথা বাংলাদেশ দলের। তবে কোচ এবং অধিনায়কের কথায় যেন উল্টো সুর।

সিলেটে খেলা শুরু সন্ধ্যা ৬টায়। টস হয়ে উঠবে গুরুত্বপূর্ণ। চা বাগান থেকে ভেসে আসা বাতাসের জলীয়বাষ্প ভেজাবে ঘাস, তার পরে বোলিং করাটা হবে কঠিন। উইকেটের ইতিহাস বলে ভালো রান হবে, এবং সেই রান তাড়া করে জেতাটাও সম্ভব।