কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের তিনজন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। গত বুধবার অধিদপ্তরের কলেজ-১ শাখার সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিউলের সই করা নোটিস থেকে এ তথ্য জানা যায়। নোটিসে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় কেন তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। তাদের আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, গুরুদয়াল সরকারি কলেজের তিনজন শিক্ষক বছরের পর বছর ধরে অনুপস্থিত থাকলেও কারও কাছ থেকে তারা ছুটি নেননি। ছুটি ছাড়াই দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
ছুটি ছাড়াই অনুপস্থিত থাকায় শোকজপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন পদার্থবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজিব মিত্র, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক তাহমিনা আখতার ও উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক অপর্ণা রানী দাস। এর মধ্যে পদার্থবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজিব মিত্র ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল থেকে প্রায় সাত বছর ধরে কলেজে অনুপস্থিত রয়েছেন। ইসলামের ইতিহাস ও
সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক তাহমিনা আখতার ২০১৯ সালের ১৪ জুন থেকে ছয় বছর ধরে কলেজে অনুপস্থিত রয়েছেন। আর উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক অপর্ণা রানী দাস অনুপস্থিত রয়েছেন ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট থেকে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মোবাইলে কল করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুশতাকুর রহমান জানান, সহকারী অধ্যাপক রাজিব মিত্র চাকরি ছেড়ে দেবেন। প্রভাষক তাহমিনা আখতার যোগদান করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয়নি। আর প্রভাষক অপর্ণা রানী দাসের যোগদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।