জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে গুম ও খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এগিয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, এ কারণে বিচার প্রক্রিয়ায় তাড়াহুড়ো করতে হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘যতটা নিখুঁতভাবে এই কাজটি করা প্রয়োজন ছিল, তা সম্ভবত করা যাবে না। অনেক বেশি তাড়াহুড়ো করতে হচ্ছে।’
গতকাল শনিবার ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) যৌথভাবে এই বৈঠকের আয়োজন করে।
অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ‘নতুন বাস্তবতায় আমাদের ভাবতে হচ্ছে, এই চিন্তাগুলো যদি না করতে হতো, তবে খুব ভালো হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে, নির্বাচিত সরকার আসবে। তারা যদি এই বিচার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে না যায়, তবে কেন আমাদের এই চিন্তা করতে হচ্ছে? আমরা ধরে নিচ্ছি, ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার এলে এই প্রসিকিউশন টিম বা বিচারব্যবস্থা নিয়ে এগিয়ে যাবে না। ফলে আমাকে তাড়াহুড়ো করতে হচ্ছে এবং কিছু কাজ শেষ করে যেতে হবে। তাই যতটা নিখুঁতভাবে এই কাজটি করা দরকার ছিল, তা সম্ভবত আমি করতে পারব না।’
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করতে না পারলে তা বড় ধরনের ব্যর্থতা হবে বলে উল্লেখ করেন তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিচারের জন্য যে পরিমাণ সময় প্রয়োজন, তা গুম কমিশন বা আমরা কেউই পাচ্ছি না। যদি আমরা অন্তত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করতে না পারি, তবে এটি বড় ধরনের ব্যর্থতা হবে।’
তবে, ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর জানান, যতদিন তিনি দায়িত্বে আছেন, ততদিন বিবেকবুদ্ধি ও আইন অনুযায়ী কাজ করে যাবেন এবং কোনো বাধাই তাদের দায়িত্ব থেকে সরাতে পারবে না। অপরাধীর পরিচয় কেবল তিনি একজন অপরাধী, তার পদ-পদবি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা তার পরিচয় হতে পারে না এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং সভ্যতা ও জাতিসত্তা রক্ষার জন্য অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, ‘যারা এই অপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন বা করবেন, তাদের মনে রাখতে হবে, তারাও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন। এ ধরনের অপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টা করাও বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার একটি প্রয়াস এবং এটিও একটি অপরাধ।’
গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রধান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা হুমা খান প্রমুখ।