আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ‘মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আদিষ্ট হয়ে এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫ উপলক্ষে আগামী ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ রবিবার থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ বুধবার পর্যন্ত অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।
৮ প্রস্তাবনায় ৫০ দফা ইশতেহার ঘোষণা বাগছাসের : ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস) সমর্থিত ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেল। ইশতেহারে মোট ৮টি প্রস্তাবনায় ৫০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের, জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার ও এজিএস প্রার্থী আশরেফা খাতুন যৌথভাবে ইশতেহার পাঠ করেন।
প্রথম প্রস্তাবনা রাজনৈতিক। এতে নিয়মিত ডাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দলীয় রাজনৈতিক আধিপত্য, অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের জীবন, কর্ম, জ্ঞান ও দক্ষতার ভিত্তিতে নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের ওপর যে নির্যাতন ও দমনপীড়ন চালানো হয়েছে, তার বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠে আসে।
দ্বিতীয় প্রস্তাবনা একাডেমিক ও প্রশাসনিক সংস্কারকে কেন্দ্র করে। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বচ্ছ নিয়োগ নীতিমালা, ‘ওয়ান স্টপ সলিউশন সেন্টার’, প্রশাসনিক ভবন পেপারলেস করা, আধুনিক ক্লাসরুমে ডিজিটাল উপকরণ, ল্যাব ফ্যাসিলিটির উন্নয়ন, শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং একটি স্বতন্ত্র দশতলা স্টাডি স্পেস নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রেডিট ট্রান্সফার চালু করা এবং পুরো ক্যাম্পাসকে সিসিটিভি ও পর্যাপ্ত আলোর আওতায় আনার দাবিও তোলা হয়।
তৃতীয় প্রস্তাবনায় শিক্ষার্থীদের কল্যাণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ওয়ান কার্ড অল সার্ভিস’ চালুর মাধ্যমে লাইব্রেরি, পরিবহন, ক্যান্টিন ও স্বাস্থ্যসেবা একসঙ্গে পাওয়া, ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান সিট’ নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং আবাসন সংকট দূরীকরণ। সিট সংকট চলাকালে শিক্ষার্থীদের আবাসন ভর্তুকির আওতায় আনা, প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার আগেই সিট নিশ্চিত করা এবং স্নাতকোত্তর রেজাল্টের এক সপ্তাহের মধ্যেই সিট ছেড়ে দেওয়ার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
চতুর্থ প্রস্তাবনায় শিক্ষার্থীদের মর্যাদা রক্ষার দাবি জানানো হয়। দাড়ি-টুপি, বোরকা-হিজাবসহ পোশাক বা আঞ্চলিক পরিচয়ের কারণে মোরাল পুলিশিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা, ভিন্নধর্মাবলম্বী, জাতিসত্তা বা মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য বন্ধের দাবি তোলা হয়।
পঞ্চম প্রস্তাবনায় ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির প্রসারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্টারলিংকের মাধ্যমে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করা, প্রতিটি একাডেমিক ভবন ও হলে এডুরোমের মাধ্যমে ফ্রি ও দ্রুত ইন্টারনেট সরবরাহ, পৃথক চক্রাকার বাস চালু করা, ডাকসু ও টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় ভর্তুকি প্রদান এবং আরও কয়েকটি ভবনে নতুন ক্যান্টিন চালুর দাবি রয়েছে।
ষষ্ঠ প্রস্তাবনায় ক্যারিয়ার ও দক্ষতা উন্নয়নের দিকগুলো উঠে আসে। সেন্ট্রাল ও সায়েন্স লাইব্রেরির আধুনিকায়ন, ২৪ ঘণ্টা লাইব্রেরি সেবা, ই-লাইব্রেরি চালু, এফবিএস ডেটা সেন্টার সক্রিয়করণ, ক্যারিয়ার ক্লাব প্রতিষ্ঠা, আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ এবং উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা হাব তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সপ্তম প্রস্তাবনায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলার সুযোগ প্রসারের দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নিজস্ব মিউজিয়াম ও কালচারাল সেন্টার নির্মাণ, আধুনিক জিমনেসিয়াম ও গেমস রুম স্থাপন, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে বাজেট বৃদ্ধি এবং হলভিত্তিক খেলার মাঠ সংস্কার।
অষ্টম ও শেষ প্রস্তাবনা নারী শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা কেন্দ্রিক। এর মধ্যে রয়েছে নারী হলগুলোতে খেলাধুলার সুবিধা বৃদ্ধি, ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু, বিশ্ববিদ্যালয় ও টিএসসি এলাকায় নামাজের স্থান সম্প্রসারণ, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হলে প্রবেশাধিকার এবং ক্যাম্পাসের সব কমন স্পেস নারীবান্ধব করার প্রতিশ্রুতি।