গত তিনটি নির্বাচনে কমিশনের কর্মকর্তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না, অথচ দায়ভার তাদের কাঁধে চাপানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার/সমমান কর্মকর্তা কল্যাণ পরিষদের আহ্বায়ক আশফাকুর রহমান। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও কার্যকর নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে উপজেলা নির্বাচন/সমমান কর্মকর্তা কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সভায় তিনি এ কথা বলেন। আশফাকুর রহমান বলেন, কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মকর্তারা সব দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। বিশেষ করে সুষ্ঠু ও কার্যকর নির্বাচন ব্যবস্থা আনতে হবে। বিগত সময়ে আমরা আমাদের কাজ করতে পারিনি। আমাদের দেখিয়ে সবাই সুবিধা নিয়েছে। ইসি এসব দাবির প্রতি সম্মান জানাবে বলেই প্রত্যাশা করি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন একই পদে থাকায় নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এ জন্য দ্রুত ‘নির্বাচন কমিশন সার্ভিস’ গঠন, গ্রেড আপগ্রেডেশন ও পদোন্নতি জরুরি। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য ডাবল কেবিন পিকআপ, সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য মোটরসাইকেল বরাদ্দ এবং জনবল নিয়োগ দিয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন ২০২৩ বাতিলের দাবি জানান তিনি।
সংগঠনের চার দফা দাবিতে বলা হয়, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে দ্রুততম সময়ে ‘নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারি করে ‘নির্বাচন কমিশন সার্ভিস’ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদ ষষ্ঠ গ্রেডে এবং সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পদ নবম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি জানানো হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য ডাবল কেবিন পিকআপ এবং সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য মোটরসাইকেল বরাদ্দের কথা বলা হয়। এ ছাড়া জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন ২০২৩ বাতিল করে জাতীয় পরিচয়পত্র কার্যক্রম পুনরায় নির্বাচন কমিশনের কাছে ন্যস্ত করার দাবি জানায় সংগঠনটি।
সংগঠনের সদস্য সচিব মো. ইউসুফ-উর-রহমান বলেন, জাতিকে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে চাই। ভালো নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কর্মকর্তাদের সার্ভিস কমিশন গঠন ও পদোন্নতি প্রয়োজন।