ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙতে বার্সোলোনা থেকে আসছে ত্রাণের বহর

ইসরায়েলের বেআইনি অবরোধ ভাঙার লক্ষ্য নিয়ে ত্রাণবাহী জাহাজের বহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা স্পেনের বার্সেলোনা বন্দর ছেড়েছে। রবিবার স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নৌকাগুলো বন্দর ছাড়তে শুরু করে। এসময় বহু কর্মী, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষী স্বেচ্ছাসেবকদের বিদায় জানাতে উপস্থিত হন।

আলজাজিরার সরেজমিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসময় উপস্থিতি ছিল অভাবনীয়। কেউই আশা করেনি জাহাজগুলো ছাড়ার সময় এত পরিমাণ মানুষ বিদায় জানাতে আসবে। সবার মনোবল খুব শক্ত। যদিও এই বহরে কেউ কাউকে আগে থেকে চেনে না তবুও প্রত্যেকের নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে।

রওনা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে সুইডিশ কর্মী গ্রেটা থানবার্গ গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের গণহত্যার নিন্দা জানান। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন সুপরিচিত ব্যক্তি এই বহরে যোগ দেন।

থানবার্গ বলেন, ইসরায়েল তাদের গণহত্যার উদ্দেশ্য খুব স্পষ্ট করেছে। তারা ফিলিস্তিনি জাতিকে মুছে ফেলতে চায়। তারা গাজা উপত্যকা দখল করতে চায়। রাজনীতিবিদ ও সরকারগুলো আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা তাদের সবচেয়ে মৌলিক আইনি দায়িত্ব—গণহত্যা প্রতিরোধ ও তা বন্ধ করা—পালন করছে না। বরং তারা ফিলিস্তিনিদের দখলদারিত্ব ও গণহত্যায় সহযোগী হয়ে উঠছে।

বার্সেলোনাভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্মী সাইফ আবুকেশেক গাজায় ইসরায়েলের জাতিগত নিধনের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনিদের অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, কারণ একটি সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের না খাইয়ে মারছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন ফিলিস্তিনি শিশু ও পরিবারকে হত্যার উদ্দেশ্যে বোমা বর্ষণ করা হচ্ছে। যখন হাসপাতাল, স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে বোমা মারা হয়, তখন মূল উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব শেষ করে দেওয়া।

জাতিসংঘ এই মাসে গাজায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি ঘোষণা করার পর ত্রাণের এই বহরটি যাত্রা শুরু হলো। এদিকে ইসরায়েল গাজা শহর দখল ও প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনায় আরও জোর দিচ্ছে, যাতে গোটা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।