গাজায় গণহত্যা বন্ধে ইসরায়েলকে কড়া বার্তা জাতিসংঘের

আপডেট : ১৯ মে ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

গাজায় ‘গণহত্যা’ এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ‘জাতিগত নিধন’ বন্ধে ইসরায়েলের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সোমবার (১৮ মে) জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম তদন্ত করে দেখা গেছে, তারা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন করেছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের অনেক কর্মকাণ্ডই যুদ্ধাপরাধ এবং নৃশংস অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

জাতিসংঘ এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব জেনোসাইড স্কলার্সের যৌথ তদন্তে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযান মূলত গণহত্যার শামিল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৩ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের জিম্মিদের ফেরানোর নামে অনেক ক্ষেত্রে অবৈধভাবে অসংখ্য সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। যদিও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর নভেম্বর মাসে একটি সংক্ষিপ্ত এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, কিন্তু এরপর দীর্ঘ সময় ধরে চলা ইসরায়েলি বাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে আরও হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক ইসরায়েলকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে প্রতিরোধ করতে হবে। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজ গৃহে ফেরার সুযোগ দিতে হবে এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অবৈধ উপস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের প্রধান অজিত সুনঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান সংকটে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত হয়নি এবং দীর্ঘস্থায়ী দখলদারিত্বের সমস্যারও কোনো সমাধান মেলেনি। 

সংঘাত পর্যবেক্ষকদের মতে, গত মাসে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে গাজায় বোমাবর্ষণের মাত্রা আরও তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সামরিক বাহিনীর সহিংস অভিযানও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বড় অংশ দখল করার পাশাপাশি সেখানকার জনজীবন ধ্বংস করার জন্য ইসরায়েলের ‘সমন্বিত ও দ্রুততর প্রচেষ্টা’ অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত