শিবিরের জিএস প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে রিট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে এস এম ফরহাদের প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে রিট করেছেন বামজোট মনোনীত ‘অপরাজেয় ৭১’, ‘অদম্য ২৪’ প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী বি এম ফাহমিদা আলম। গতকাল রবিবার আদালতে বিষয়টি উত্থাপন করেন রিট আবেদনকারীর আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। বিচারপতি হাবিবুল গণির নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার ধার্য করেছে। রিট আবেদনে বলা হয়, ডাকসুর নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে এস এম ফরহাদের প্রার্থিতার বৈধতা দেওয়াটা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা বাতিল করে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে। রুল হলে তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকার অংশটুকুর কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে রিটের বিষয়ে ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদ বলেন, আমার প্রার্থিতাকে চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়েরকারী বামজোটের নেত্রীকে তার উদ্যোগের জন্য শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দল কর্তৃক দীর্ঘ সময় ধরে ছবি এডিট করে, ভিডিও বানিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার চেয়ে আইনি উদ্যোগ তুলনামূলক ভালো অ্যাপ্রোচ। বাধা, ষড়যন্ত্র কিংবা অপকৌশল মাড়িয়েই আমাদের নিয়মিত পথচলা; এই যাত্রায় আমরা থামব না, ইনশাআল্লাহ।’ তিনি আরও বলেন, বেশ কয়েকটি পক্ষ তাদের শিক্ষার্থী বিচ্ছিন্নতার কারণে নিজেদের কোনো এজেন্ডা না পেয়ে সকাল-বিকেল ও সন্ধ্যায় ছাত্রশিবিরের ব্যাপারে সমালোচনা করে।

ডাকসুকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্র হচ্ছে : হামীম

ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের জিএস প্রার্থী তানভীর বারী হামীম বলেছেন, আগে দেখতাম, জাতীয় নির্বাচনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ষড়যন্ত্র থাকে। কেন যেন মনে হচ্ছে, ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। গতকাল মধুর ক্যান্টিনের সামনে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা নিয়ে একটি রিট হয়েছে। তার প্রার্থিতা নিয়ে যদি আপত্তি থাকে, তাহলে সেটি কেন নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে করা হলো? প্রথম রিট করা উচিত ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। কারণ, এই ছাত্র সংগঠন যদি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ক্ষুন্ন করে থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন তাদের নির্বাচনের আওতামুক্ত করল না। এতদিন না করে এখন কেন রিট করা হলো, এর ফলাফল কী হবে, সেটি বোধগম্য হচ্ছে না।

ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি প্রার্থীদের : ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস-পরীক্ষা চার দিন বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তকে দুরভিসন্ধিমূলক আখ্যা দিয়ে অতি দ্রুত তা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা। ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক ঘোষিত চার দিনের ছুটি এবং তার আগে শুক্র ও শনিবার দুই দিনের সরকারি ছুটি মিলে সর্বমোট ছয় দিনের ছুটি অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোটদানে নিরুৎসাহিত করার শামিল। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে ক্যাম্পাসে নিরুৎসাহিত হবেন। এটা বিবেচনায় রাখার অনুরোধ জানাই। ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম বলেন, ক্লাস বন্ধ করার কোনো যৌক্তিকতা আমি ও দেখি না, শুধু পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারত। বামপন্থি জোট ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী নাঈম হাসান হৃদয় বলেন, এখন এসে নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ক্লাস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশকে ব্যাহত করবে। আমরা অবিলম্বে ক্লাস বন্ধের এই সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানাই।

সাইবার বুলিং আটকাতে প্রার্থীদের দাবি : ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রমবর্ধমান সাইবার বুলিং চলমান রয়েছে। এই সাইবার বুলিং প্রতিরোধে বিভিন্ন প্যানেল থেকে প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে বেশ কিছু দাবি তুলেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো একটি কার্যকর সাইবার সিকিউরিটি সেল গঠন করা, যেখানে ডিএমপির সাইবার ইউনিটও যুক্ত থাকবে; যেসব ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ থেকে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তাদের অ্যাডমিনদের পরিচয় প্রকাশ করা; বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে ভুয়া পেজ চালানো বন্ধ করা; অনলাইন বুলিংকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা। ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থীর জোট’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমরা একটি প্রজন্ম তৈরি করতে চাই, যারা ভয়ের রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করবে। কিন্তু অনলাইন হয়রানি সেই ভয়কেই জিইয়ে রাখছে। আমরা চাই প্রশাসন শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিক।’

প্রতিরোধ পর্ষদের ইশতেহার ঘোষণা : আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছে বামপন্থি ছাত্র সংগঠন সমর্থিত প্রতিরোধ পর্ষদ। প্যানেলটি মোট ১৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে। গতকাল বিকেলে মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী মেঘমল্লার বসু। ইশতেহারগুলো হলো ডাকসুর কাঠামোর সংস্কার ও ক্ষমতা বৃদ্ধি; শিক্ষার্থীদের ক্ষমতায়ন করে শিক্ষার মানোন্নয়ন; গবেষণায় অগ্রাধিকার; আবাসন সংকট নিরসন; নারীবান্ধব ক্যাম্পাস নির্মাণ; সব জাতিসত্তার অধিকার নিশ্চিতকরণ; খাদ্য এবং পুষ্টিমান সুরক্ষা; শারীরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা; মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, লাইব্রেরি, সেমিনার, রিডিংরুম এবং কমনরুমের উন্নয়ন; প্রকাশনা সংস্থাকে সচল করা; মুক্ত পরিসর পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণ; সাহিত্য এবং সংস্কৃতি; পরিবহন; ক্রীড়া; পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষা; গণতন্ত্র, স্বায়ত্তশাসন ও মতপ্রকাশের অধিকার; মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন।