মাদারীপুরের রাজৈর পৌরসভার আমবাগ-কুঠিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা জমি অবৈধভাবে দখলদার ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলার আসামি আনোয়ার শেখের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। তার অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ ও বিচারের দাবিতে একত্ব হয়েছে এলাকাবাসী।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে আনোয়ার শেখের বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী খলিল বেপারীসহ এলাকাবাসীরা। এসময় তিনি আনোয়ার শেখের নানা অপকর্ম তুলে ধরেন।
আসামি আনোয়ার শেখ রাজৈর উপজেলার আমবাগ-কুঠিবাড়ী এলাকার মৃত হাচেন শেখের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, আনোয়ার শেখ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, শিশু ধর্ষণ, জমি দখল, ডাকাতি, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম করে আসছে। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে নানাভাবে হয়রানি করেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক থানায় ডাকাতি ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ একাধিক থানায় মামলা রয়েছে। তার পৈত্রিকসূত্রে তেমন জমি-জমা না থাকলেও বর্তমানে তিনি অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন। তারই প্রতিবাদে একত্রিত হয়েছে এলাকাবাসী। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও দাবি করেন তারা।
ভুক্তভোগী খলিল বেপারী বলেন, আমার সঙ্গেও জমিজমা নিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে ও ভুল তথ্য দিয়ে একটি মনগড়া সংবাদ সম্মেলন করেছিল। যেটা সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন। সে আওয়ামীলীগের দোসর। তার নামে বিএনপির জনসভায় বোমা হামলার মামলা চলছে। তবে বর্তমানে সে বিএনপির সঙ্গে জড়িত বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার শাস্তি দাবি করছি।
তিনি আরো বলেন, জমি সংক্রান্ত যে দাখিলের প্রসঙ্গ তুলে তার নাম জড়ানো হয়েছে, সেখানে তিনি কোনো ভাবেই ওয়ারিশ নন। পাশাপাশি আনোয়ার শেখের আর্থিক উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি এবং প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে তদন্ত দাবি করছি।
আরেক ভুক্তভোগী হারুন মোল্লা বলেন, দিন দিন আনোয়ারের অত্যাচার বেড়েই চলছে। মানুষের জমি দখলসহ একাধিক অপরাধের সঙ্গে সে জড়িত। সে যে সরকার আসে, সে তাদেরই দল করে। এমন লোক সমাজের ভয়াবহ। তাকে শাস্তির আওতায় আনা হোক।
এ বিষয়ে আনোয়ার শেখের কাছে জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যারা বলছে তারাই ভূমিদস্যু।
এ ব্যাপারে রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে লিখিতভাবে কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া পূর্বের কোন মামলায় কেউ ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি হলে তাকে অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে। আর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।