একজন শিক্ষক যখন অবসরে যান, তখন তিনি শুধু চাকরি থেকে বিদায় নেন না; বিদায় নেন দীর্ঘদিনের স্মৃতি, প্রজন্মের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার আবহ থেকে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বখতিয়ারপাড়া চারপীর আউলিয়া (রহ.) ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হাফেজ মাওলানা কাজী মো. আবুল কালামের বিদায় অনুষ্ঠানও ছিল তেমনই এক আবেগঘন দৃশ্য— যেখানে শিক্ষকতার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা মিলেমিশে গড়ে তোলে এক রাজকীয় আয়োজন। সোমবার দুপুরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
মানুষ গড়ার কারিগর খ্যাত এই শিক্ষকের অবসর যেন হয়ে উঠেছে শিক্ষাঙ্গণের এক স্বর্ণালী অধ্যায়ের সমাপ্তি। টানা একচল্লিশ বছর শিক্ষকতার পর বিদায়ের মুহূর্তে তিনি শুধু একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকই নন, হয়ে উঠেছিলেন প্রজন্মের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক। তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও বিদায় সংবর্ধনা দিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে বসিয়ে মিছিল সহকারে কয়েক কিলোমিটার দূরের বাড়িতে পৌঁছে দেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয় বিদায় দেওয়ার এমন আয়োজন এলাকাবাসীর কাছে ছিল প্রথম অভিজ্ঞতা। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ভিড় করেন প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, সহকর্মী এবং অভিভাবকরা। চারপাশে সৃষ্টি হয় আবেগময় পরিবেশ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিদায়ী এই শিক্ষক বলেন, “মাদ্রাসা থেকে পড়াশোনা শেষ করে গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে শিক্ষকতা শুরু করি। এখানে দীর্ঘ একচল্লিশ বছর শিক্ষকতা করেছি। আজ বিদায়ের এ দিনটি আমার জীবনের সবচেয়ে স্বার্থক দিন বলে মনে করি।”
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা কাজী মো. আব্দুল হান্নান বলেন, “বিদায়ী এই শিক্ষক ছাত্রজীবন থেকেই এলাকায় ঘরে ঘরে গিয়ে কুরআন পড়াতেন। পরে তাকে এই মাদ্রাসায় ইবতেদায়ী শিক্ষকতার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সততা, নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দীর্ঘ একচল্লিশ বছর শিক্ষকতার পর তিনি নিয়ম অনুযায়ী অবসর নিলেন। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তার অবদান অপরিসীম।”
বিদায় অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা কাজী মো. আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি মাওলানা মো. ওসমান গণি।