ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নারী শিক্ষার্থী বিএম ফাহমিদা আলমকে প্রকাশ্যে গণধর্ষণের হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নারী নেত্রী রূপন্তী রত্না বলেন, আমারা দেখেছি একটা মেয়েকে যখন ইভটিজিং করা হলো তখন জেল থেকে বের হলে তাকে গলায় মালা দিয়ে বরন করে। তাহলে সে তো মনে ধারণ করবে ধর্ষণ করলে মেডেল পাবে।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠাল তলা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্যদিয়ে শেষ হয়।
রত্না বলেন, এই বাংলাদেশে সরাসরি গণধর্ষণের মতে পদযাত্রার হুমকি দেওয়া হয়। আমি বিশ্বাস করি ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী তাদের বয়কট করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিয় বোনেরা ছাত্রী সংস্থার প্রকাশ ঘটেছে। নারীদের এই অবমাননা, লাঞ্ছনা, বডি শেপিং বয়স এই নিয়ে কথা বলা হয়। জবির ছাত্রী সংস্থার বোনেরা তারা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবে বলে আমি আশা করি।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটা সংগঠন থেকে নারীদের যে জায়গা তা দিতে হবে। নারীদের লাঞ্ছিত ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হলে তা বিচার চাইতে হবে।
আমার বয়স কত, আমি বিবাহিত নাকি, বাচ্চা আছে কিনা তা পুরুষ সমাজের কনসার্ন না। আমি রীতিমতো ক্যাম্পাসে হয়রানির স্বীকার হই। নারীদেরকে নিয়ে এত কিছু হচ্ছে এইগুলা মানসিক অশান্তি। এইগুলা বন্ধ করা হউক।
বিক্ষোভ মিছিল থেকে তারা, ‘ধর্ষকের কালো হাত ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও, ধর্ষকের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়। ‘তাছাড়া একাত্তরের গণধর্ষণ চব্বিশে চলবে না, ধর্ষকের কালো হাত ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও, জ্বালোরে জ্বালো আগুন জ্বালো' এ ধরনের নানা স্লোগান দেয়। বিক্ষোভ মিছিলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আলী হুসেন নামে এক শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বামজোট প্যানেলের প্রার্থী ও ঢাবি শিক্ষার্থী বিএম ফাহমিদা আলমকে ধর্ষণের হুমকি দিয়ে ফেসবুক পোস্ট দেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় এবং তার শাস্তির দাবি ওঠে।
এ সময় জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ২৪ আগস্ট না হলে সাদিক, ফরহাদ কি প্রকাশ্যে আসতো? আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য ৩১ দফা সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যখন বিপদে পড়ে তখন কোনো কোনো জায়গা থেকে আওয়াজ উঠে যায়। এই বাংলাদেশে কোনো গণহত্যাকারীর ঠাঁই নেই, এই বাংলাদেশে কোনো গণধর্ষকের ঠাঁই নেই।
তিনি বলেন, কিছু কিছু কুলাঙ্গার মব তৈরির চেষ্টা করছে। নারীদের তীর্যকভাবে দেখিয়ে দিতে চাই। একাত্তরে যেভাবে নারীদের দেখিয়ে দিতো এরা এখন সেভাবে দেখিয়ে দিতে চায়। প্রতিটা ক্যাম্পাসে কিছু কিছু মানুষ গুপ্ত রাজনীতি করে মব তৈরি করে। শিবির অস্বীকার করছে আলী হোসেন তাদের লোক নয়। বাংলাদেশের মানুষ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল দেখতে চায় আপনারা কতজন লোক আছেন। ইন্টেরিম সরকারকে বলতে চাই ওদের এই গুপ্ত রাজনীতি আপনারা বন্ধ করুন। ছাত্রসংসদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার ভয়ে একদল লোক মব সৃষ্টি করে। এদেশে গণহত্যা, গণধর্ষণকারীদের ঠাঁই নেই।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, আমরা গত ১৭ বছর নিজেদের ব্যানারে রাজনৈতিক মিছিল করেছি। এর ফলে আমাদের শত শত নেতাকর্মী হামলা, মামলা, গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের তিন নেতাকে গুম করা হয়। তারা এখনও নিখোঁজ। কিন্তু এতো অত্যাচারের পরও ছাত্রদল অন্যকোনো আশ্রয় নেয় নি।
শিবিরের অনেকে ছাত্রলীগের ছায়াতলে, ব্যানারে এমনকি পোস্টেড নেতা ছিলেন। এছাড়াও জুলাই-২৪ এর পর অনেক সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাত্রলীগের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। তাদের অপকর্ম, অন্যায়কে পশ্রয় দিয়েছেন। যারা ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে দাবি তুলেছিলেন, তারাও এখন শিবিরের সভাপতি-সেক্রেটারি। ৭১-এ আপনারা পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করেছেন, এখনও তাদের আদর্শ ধারণ করছেন। আপনারা কখনোই বাংলাদেশ নামক দেশ চান নি।
এ সময় সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেন, মাহমুদুল হাসান খান, রবিউল আউয়াল, রফিকুল ইসলাম, নাহিয়ান বিন অনিক, রাসেল মিয়া, ওহিদুজ্জামান তুহিন, জাহিদুল ইসলাম, রাশেদ খান, রাহাতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।