শিশু নিপীড়নের ঘটনায় থানায় মামলা, নিরাপত্তাহীন পরিবার

চকলেট দেওয়ার লোভ দেখিয়ে পাঁচ বছরের শিশুকন্যাকে যৌন নিপীড়ন করেছে একই এলাকার ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। সেই ঘটনায় শিশুটির বাবা থানায় মামলা করে পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় আসামির পরিবারের লোকজন বিষয়টি মীমাংসার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। এদিকে থানায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট দুপুরে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আসামি সাহেব আলী প্রামাণিক (৬০) একই গ্রামের চেনু প্রামাণিকের ছেলে। ভুক্তভোগী শিশুর বাবা ঘটনার পরদিন গাবতলী থানায় সাহেব আলী প্রামাণিককে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট শিশুটি তার ফুপুর বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। বেলা ১২টার দিকে শিশুটিকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে কোলে তুলে বাড়িতে নিয়ে যায় আসামি সাহেব আলী। এরপর ঘরের দরজা লাগিয়ে তার ওপর যৌন নিপীড়ন চালায়। এদিকে শিশুটিকে তার পরিবারের লোকজন খুঁজতে থাকে। এ সময় পরিবারের লোকজন দেখতে পায় শিশুটি কান্না করতে করতে সাহেব আলীর বাড়ি থেকে বের হচ্ছে। শিশুটিকে তার মা কান্নার কারণ জানতে চাইলে ঘটনাটি খুলে বলে।

শিশুটির বাবা বলেন, ‘আমার শিশু মেয়েকে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেছে সাহেব আলী। আমি থানায় মামলা করেছি। এখন ওদের পরিবারের লোকজন আমাদের মীমাংসায় আসার জন্য বারবার লোক পাঠাচ্ছে ও মোবাইলে কল দিয়ে হুমকি দিচ্ছে। আমরা পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’ শিশুটির মা বলেন, ‘এখন মেয়েটি ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারে না। আমি এর বিচার চাই।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাবতলী থানার এসআই মজিবুর রহমান বলেন, ‘শিশু যৌন নিপীড়নের ঘটনায় আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যদি কেউ শিশু ও তার পরিবারকে হুমকি দেয় তাহলে অবশ্যই এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি দেখা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই আসামি সাহেব আলী একই এলাকার ১৩ বছর বয়সী আরেক মেয়েকে ধর্ষণ করে এবং পরে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় গাবতলী থানায় ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর মামলা হয়। ওই মামলায় আসামি সাহেব আলী দুই বছরের বেশি সময় হাজতবাস করেছে। পরে আসামি সাহেব আলী প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেছে।