আরপিও সংশোধন

নিষেধাজ্ঞা থাকলে ভোট করতে পারবে না আ.লীগ!

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) বড়-ছোট মিলিয়ে ৪৬টি সংশোধনী এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা অনুমোদন শেষে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তার দাবি, এসব সংশোধনী কার্যকর হলে নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে।

সংশোধনীতে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কোনো প্রার্থী তার নিজ সংসদীয় আসনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্য হতে পারবেন না। একই সঙ্গে প্রার্থীর হলফনামায় মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে নির্বাচন কমিশন নিজ উদ্যোগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। এ ছাড়া আদালত কর্র্তৃক ঘোষিত ফেরারি আসামিরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলেও জানান তিনি।

পাশাপাশি প্রশ্নের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা দল বা সেই দলের কোনো সদস্য দলীয় প্রতীক বা দলের সদস্য হিসেবে ভোট করতে পারবেন না বলেও জানান ইসি সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘সেই রাজনৈতিক দল (কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা) তার কোনো কার্যক্রম করতে পারছে না। সুতরাং সেই রাজনৈতিক দলের নাম নিয়ে কেউ কোনো ধরনের ইলেকশন করতে পারছেন না।’

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে দলটি ভোট করতে পারবে না।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘আগে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ছিল। মাঝখানে এটা সংশোধন করে বিধান করা হয়েছিল যে, ভোট শুরুর আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি দেখবে, তারা রিপোর্ট দিলে ভোট শুরু করতেন। আমরা এটাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে গেছি। এতে কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার হবেন সর্বেসর্বা। এ ছাড়া মিডিয়াকর্মীসহ অন্যরা কতক্ষণ ভোটকক্ষের ভেতরে থাকবেন তা নির্ধারণের ক্ষমতা আমরা প্রিসাইডিং অফিসারকে দিয়েছি।’

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এবার প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেছে ইসি। প্রার্থী ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। অথবা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার মধ্যে, যেটা সবচেয়ে বেশি হবে, সেটা ব্যয় করতে পারবেন।’

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘আরপিও’র ১২ ধারার একটি ধারা যুক্ত করা করা হয়েছে। যে বা যারা প্রার্থী হতে চাইবেন, তারা তাদের সেই সংশ্লিষ্ট কনস্টিটিয়েন্সির কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিতে চেয়ার হিসেবে বা সদস্য হিসেবে থাকা যাবে না। এফিডেভিটের মধ্যে নমিনেশন পেপারের সঙ্গে সর্বশেষ ট্যাক্স ইয়ারের ইনকাম ট্যাক্স রিটার্নটা অ্যাড করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আগে আরপিওতে লেখা ছিল সোর্স অব ইনকাম। এখানে আমরা আরেকটু অ্যাড করেছি, বোথ অ্যাট হোম অ্যান্ড অ্যাব্রড। অর্থাৎ দেশে এবং দেশের বাইরে। একইভাবে স্টেটমেন্ট অব প্রপার্টি এবং ডেট, অর্থাৎ সম্পদ এবং তার দেনার যে ইয়ে ছিল বর্ণনা ছিল সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর এটাও দেশে এবং দেশের বাইরের কথাটা অ্যাড করা হয়েছে।’

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘যদি কোনো প্রার্থী তার হলফনামায় কোনো মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকেন বা এটা যদি প্রতীয়মান হয় নির্বাচন কমিশনের কাছে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বা কোনো প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বা রিপোর্টের ভিত্তিতে, তাহলে নির্বাচন কমিশন সেটা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারবে এবং যে অফিসের জন্য তিনি নির্বাচিত হচ্ছেন অর্থাৎ পাঁচ বছর সময়কালের মধ্যে যেকোনো সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে রিকল করা যাবে। এমনকি সংসদ সদস্য পদ হারাবেন।’

কোনো আসনে একক প্রার্থী থাকলে ‘না ভোটে’র সঙ্গে প্রথমে ভোট হবে বলে জানান ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, “একক প্রার্থী ও ‘না ভোটে’র মধ্যে যদি কোনো কারণে ‘না ভোট’ বেশি হয় তাহলে পুনঃতফসিল। পরে সেই তফসিলে আবারও একক প্রার্থী থাকলে তখন প্রার্থী জিতে যাবে, ভোট করবে না ইসি।”

ইসি সানাউর্লাহ বলেন, ‘জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে গেলেও দলীয় যে সিম্বল আছে, প্রতীক আছে, সেই প্রতীকেই প্রার্থীরা নির্বাচন করবেন।’

আগামী সংসদ নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়ন দাখিল করার সুযোগ আছে কি না, জানতে চাইলে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, শুধু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল, জাতীয় নির্বাচনে ছিল না। এটা আমরা নতুন করে অ্যাড করব বলে ভেবেছিলাম, বাট এখন আমরা অ্যাড করছি না ভবিষ্যতে হয়তো বা অ্যাড হতে পারে।