আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ছিল ক্রিকেটারদের মিলনমেলা। সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটারদের আড্ডায় জমে উঠেছিল উৎসবের আবহ। কারণ, ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) নির্বাচন।
সাদা পাঞ্জাবি পরে ভোট দিতে এসেছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। সম্প্রতি বিসিবির আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় তাকে ঘিরে আগ্রহ ছিল আরও বেশি। শোনা যাচ্ছিল, কোয়াবের সভাপতি পদেও প্রার্থী হতে পারেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পথে হাঁটেননি তামিম।
কেন কোয়াব নির্বাচনে অংশ নেননি, এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, 'আপনারাও জানেন আমি কী কারণে (কোয়াব নির্বাচনে) আসিনি। আশা করি আপনারা বুঝতে পারবেন।'
তামিমের ইঙ্গিত স্পষ্টতই বিসিবি নির্বাচনের দিকেই। সেখানে পরিচালক বা সভাপতি পদে জয়ী হলে কোয়াব কমিটিতে থাকা স্বার্থের সংঘাত তৈরি করত।
তামিম আরও বলেন, যদি বিসিবি ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে, তবে কোয়াবের কোনো কাজই থাকবে না, 'আমার তো মনে হয়, আল্লাহ করুক ওদের যেরকম কোনো কাজই না থাকুক। যদি ক্রিকেট বোর্ড খেলোয়াড়দেরকে টাকা-পয়সা, সুযোগ-সুবিধা সবকিছু দেয়, তাহলে অভিযোগ করার কিছুই থাকবে না।'
তবে তিনি স্বীকার করেন, কোয়াবের কাজের মূল ক্ষেত্র সক্রিয় ক্রিকেটারদের ঘিরেই। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারিশ্রমিক বকেয়া থেকে শুরু করে নানা সমস্যায় বর্তমান ক্রিকেটারদের কোয়াবের শরণাপন্ন হতে হয়। তাই বর্তমান ক্রিকেটারদের নেতৃত্বে আসাকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন, 'কারণ ওরা নিজেরাই জানে কী সুবিধা পাচ্ছে, কোথায় কষ্ট হচ্ছে। তাই সভাপতি বা কমিটি যদি সক্রিয় ক্রিকেটারদের মধ্যে থেকে আসে, সেটা সবচেয়ে ভালো।'
এবারের কোয়াব নির্বাচনে ১১টি পদের মধ্যে ১০টিতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। আসল লড়াই শুধু সভাপতি পদে। বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন সাবেক ক্রিকেটার ও ম্যাচ রেফারি সেলিম শাহেদ এবং জাতীয় দলের ব্যাটার মোহাম্মদ মিঠুন। তাদের মধ্য থেকেই নির্ধারিত হবে কোয়াবের নতুন সভাপতি।
গত বছর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নাঈমুর রহমান ও দেবব্রত পাল পদ ছাড়েন। এরপর আহ্বায়ক কমিটির অধীনে এবার নির্বাচন হচ্ছে। তামিম বিশ্বাস করেন, নতুন কমিটির হাতে এখন দুই বছরের সময় থাকবে সবকিছু আরও সুসংগঠিত করার জন্য।