চার দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন করায় চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করার ঘটনায় নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৮০৯ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী গণছুটি ঘোষণা করে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার নতুন করে তিনজনকে এবং এর আগে আরও একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রতিবাদে বুধবারই আন্দোলনকারীরা গণছুটির ঘোষণা দেন।
এর আগে তারা পল্লী বিদ্যুৎ এর সিস্টেম সংস্কার, আরইবির শোষণ-নিপীড়ন ও নিম্নমানের মালামাল থেকে মুক্তির দাবীতে (৪ দফা) নেত্রকোনার পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত পাঁচ দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।
কিন্তু এই দাবীর প্রেক্ষিতে নেত্রকোনার এজিএম প্রশাসন ও এইচআর তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করে। বৃহস্পতিবার মেম্বার সার্ভিস কো-অর্ডিনেটর (এইসি) মোঃ ওমর ফারুক, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার (ওএন্ডএম) মোঃ আবু হাসান, এবং বিলিং সহকারী জ্যাকুলিন বাশারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনায় মোট ৮০৯ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী অনির্দিষ্টকালের ছুটির আবেদন লিখে কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
অফিস ত্যাগের কারণে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর দপ্তর সম্পূর্ণ ফাঁকা ও জরুরি সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে পুলিশ, আনসার ও সেনাবাহিনীর সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা মোতায়েন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে আরিফ আকাশ গণছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গণছুটির বিষয়ে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মোঃ আকরাম হোসেনকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে ১২টি জোনাল ও সাব-জোনাল অফিসের আওতায় প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন।