সাধারণ জ্ঞান প্রয়োগ করলে আলোচনার মাধ্যমেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তবে উপায়ন্তর না থাকলে বলপ্রয়োগের জন্য ক্রেমলিন প্রস্তুত আছে বলেও হুঁশিয়ার করেছেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। বেইজিংয়ে গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আমি আশাবাদী। সুড়ঙ্গের শেষ মাথায় আমি আলোর ছটা দেখতে পাচ্ছি। সাধারণ জ্ঞান কাজে লাগালে, যুদ্ধ থামাতে গ্রহণযোগ্য একটা সমাধান মেনে নেওয়া সম্ভব বলেই আমার মনে হয়।
তবে প্রয়োজনে যেকোনো কিছুর জন্যও যে তিনি প্রস্তুত আছেন, তা মনে করিয়ে দিয়ে পুতিন বলেন, আলোচনায় কাজ না হলে, অস্ত্রের জোরে আমাদের সব সমাধান করতে হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে চীনের বিজয় উদযাপনে আয়োজিত বার্ষিক কুচকাওয়াজে অংশ নিতে বেইজিং গিয়েছিলেন পুতিন। তিনিসহ আরও ২৬টি দেশের নেতা চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সংকট সমাধানে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও আলোচনার জন্য রাজি আছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন পুতিন। তবে শর্ত থাকে যে, জেলেনস্কিকে অবশ্যই মস্কো গিয়ে বৈঠক করতে হবে। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে সম্মত হওয়ার বিষয়টি আলাদাভাবে গুরুত্ব পাওয়ার কারণ হচ্ছে এর আগে জেলেনস্কির নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করতে চাইতেন না রুশ প্রেসিডেন্ট।
সাধারণ জ্ঞান প্রয়োগ করে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার কথা বললেও, নিজের অবস্থান থেকে একচুল সরার কোনো লক্ষণ পুতিন এখনো প্রকাশ করেননি। যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে তার প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে, ইউক্রেনকে পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগদানের আকাক্সক্ষা ত্যাগ করতে হবে। এ ছাড়া, ইতিমধ্যে দখলকৃত ইউক্রেনীয় ভূমি রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়া ও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার মতো দাবিও ক্রেমলিনের তরফ থেকে করা হয়েছে। তার দাবিগুলোকে প্রথম থেকেই অগ্রহণযোগ্য বলে খারিজ করে দিয়ে এসেছে ইউক্রেন। তাদের অভিযোগ, রাশিয়ার দাবি মেনে নেওয়া আত্মসমর্পণের শামিল।