সৈকতের ঝাউগাছে ঝুলছিল সাংবাদিকের লাশ

ফেসবুকে আত্মহত্যার বার্তা দেওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ঝাউবাগানের একটি গাছ থেকে আমিন উল্লাহ (২৮) নামের এক সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সমুদ্র সৈকতের পর্যটন গলফ মাঠসংলগ্ন ঝাউবাগান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় তার শার্টের পকেটে একটি যাত্রীবাহী বাসের টিকিট পাওয়া গেছে।

নিহত আমিন উল্লাহ উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বালুখালী এলাকার মৃত জুনু মিয়ার ছেলে। তিনি দৈনিক প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার উখিয়া প্রতিনিধি এবং উখিয়া নিউজ নামে একটি অনলাইনভিত্তিক ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন ছিলেন। এ ছাড়া তিনি উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ফ্রেন্ডশিপ ফিল্ড হাসপাতালে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি ইলিয়াছ খান জানান, মরদেহটি গাছের সঙ্গে নাইলনের রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার পা মাটির কাছাকাছি ছিল। গলায় রশির দাগ ছাড়া শরীরে অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।’

এদিকে, আমিন উল্লাহর মৃত্যুর পর ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগের ওই ভিডিওতে আমিন উল্লাহ দাবি করেছিলেন, পালংখালীতে ছাত্রলীগের একটি মিছিল হয়েছিল, যেখানে তিনি বা তার আত্মীয়স্বজন অংশ নেননি। মিছিলের ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে রয়েছে। তবুও পুলিশ তাকে খুঁজতে তার বাড়িতে যায় এবং তাকে না পেয়ে তার ভাইকে আটক করে। এরপরও পুলিশ তাকে নানাভাবে হয়রানি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ওই ভিডিওতে তিনি মানসিক অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে আত্মহত্যার হুমকি দেন এবং বলেন, তিনি আত্মহত্যা করলে তার জন্য উখিয়া থানার পুলিশ দায়ী থাকবে।

পালংখালী এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী শ. ম. গফুর জানান, গত বুধবার রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকায় কক্সবাজার ফেরার জন্য গাড়ির অপেক্ষার সময় আমিন উল্লাহর সঙ্গে তার দেখা হয়। আমিন জানিয়েছিলেন, তিনি চট্টগ্রামে ফুপুর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে তিনজন অপরিচিত যুবক ছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার পর তিনি মারশা পরিবহন সার্ভিসের একটি বাসে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। গতকাল সকালে সমুদ্র সৈকতের ঝাউবাগান থেকে আমিন উল্লাহর মরদেহ উদ্ধারের খবর শোনেন বলে জানান গফুর।

ওসি ইলিয়াছ খান জানান, মরদেহটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।