সীমানা নিয়ে বিক্ষোভ হরতাল আদালতে যাওয়ার হুমকি

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আসন সীমানার পুনর্নির্ধারণের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বিক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো জেলায় হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা ও সড়ক অবরোধের মতো ঘটনাও ঘটেছে। বিক্ষুব্ধরা বলছেন, দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রয়োজনে আদালতের শরণাপন্ন হবেন তারা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সংসদ নির্বাচনে সীমানার চূড়ান্ত করে গেজেট নিয়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে আর কোনোভাবেই আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, কমিশন সর্বোচ্চ সতর্কতা, নিরপেক্ষতা এবং যৌক্তিক বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং গেজেট প্রকাশ করেছে। গতকাল রবিবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

সংসদীয় আসনের সীমানা নিয়ে আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন আন্দোলন হচ্ছে, আবার কোথাও আনন্দ মিছিল হচ্ছে। এটা রাজনৈতিক বিষয়, স্থানীয়ভাবে কীভাবে সমাধান হবে আরও কিছু সময় গেলে বুঝা যাবে। কমিশন মনে করে আন্দোলন করে কোনো লাভ হবে না।

তিনি বলেন, আমরা প্রতিদিন ভোটার সংখ্যার আপডেট পাই। ৬৪ জেলার এই ভোটারের সংখ্যা, গড় ও মোট সংখ্যা যাচাই-বাছাই করেই আমরা কোন জেলায় কোথায় বেশি বা কম তা নির্ধারণ করেছি। সেই ভিত্তিতেই খসড়া গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা, ভৌগোলিক অখ-তা এবং আদমশুমারির সঙ্গে ফাঁক না থাকে তা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করেছি। শতভাগ নিখুঁত করা কঠিন, কারণ দেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও প্রশাসনিক বিন্যাস সব জায়গায় সমান নয়।

কমিশনার আনোয়ারুল আরও জানান, ভোটার সংখ্যার র‌্যাংকিং অনুযায়ী গাজীপুর ছিল শীর্ষে আর সর্বনিম্ন ছিল অন্য এলাকায়। গাজীপুরে একটি আসন কমালেও সেখানে গড় ভোটার সংখ্যা জাতীয় গড়ের নিচে ছিল। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, এক জায়গায় ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার।

বাগেরহাটে হরতালসহ পাঁচদিনের কঠোর কর্মসূচি বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে এবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালসহ পাঁচদিনের কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি। গতকাল দুপুরে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন কমিটির কো-কনভেনর এম এ সালাম।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ৭ সেপ্টেম্বর জেলার সব অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজারে লিফলেট ও মাইকে প্রচার-প্রচারণা, ৮ সেপ্টেম্বর জেলা জুড়ে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল, ৯ সেপ্টেম্বর জেলায় বিক্ষোভ মিছিল, ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল।

বাগেরহাট জেলা সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির কো-কনভেনর এম এ সালাম বলেন, ৭ সেপ্টেম্বর জেলার সব অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজারে লিফলেট ও মাইকে প্রচার-প্রচারণা, ৮ সেপ্টেম্বর জেলা জুড়ে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল, ৯ সেপ্টেম্বর জেলায় বিক্ষোভ মিছিল, ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডাকা হয়েছে। আসন পুনর্বহালের দাবিতে সবাই জেলা জুড়ে আমাদের এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবে। আসন ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাচনী সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসে অসন্তোষ প্রকাশ করে ঢাকা- সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছে স্থানীয়রা। গতকাল রবিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু করে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা ৭ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা।  বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ডাকবাংলো এলাকায় সর্বদলীয় ঐক্য সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।

অবরোধ চলাকালে বক্তব্য রাখেন সর্বদলীয় ঐক্য সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ইমাম হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আফজাল হোসেন ও ডা. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। এ সময় বক্তারা বলেন, ‘আসন সীমানা পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র চলছে। এরই মধ্যে পৃথক করা ২টি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসন থেকে সরিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে যুক্ত করা হয়েছে। 

অন্যদিকে পাবনা-১ সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পাবনার বেড়া উপজেলার বাসিন্দারা। গতকাল রবিবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বেড়ার সিঅ্যান্ডবি মোড়ে ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক অবরোধে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে স্লোগান দেন তারা।

এ সময় অবরোধকারীরা বলেন, সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে পাবনা-১ আসনকে ভাগ করা হয়েছে। বেড়া উপজেলাকে পৃথক করে পাবনা-১ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু বেড়া উপজেলার জনগণ ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা কারণে সাঁথিয়ার সঙ্গে যুক্ত। পাবনা-১ আসন থেকে বেড়াকে বাদ দিলে পৃথক আসন ঘোষণা করতে হবে। পাবনা-২ আসনে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত বেড়াবাসী মানবে না।

অবরোধে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বেড়া পৌর বিএনপির সভাপতি ফজলুর রহমান ফকির, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাজেদুল ইসলাম বিপু, সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন ইকবাল ও সাংগঠনিক সম্পাদক আকশেদ আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মইন উদ্দিন খাজা প্রমুখ।