চলতি বছরের আগস্ট মাসে দেশের মূল্যস্ফীতি কমেছে, যা তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি কমলেও বেড়েছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি। চাল, সবজি, মাছ ও মাংস থেকে শুরু করে সব ধরনের নিত্যপণ্যের চড়া দামের কারণে ভোক্তার ওপর চাপ তৈরি করেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়াতে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানা গেছে। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জুলাই মাসে এই মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশে। তিন বছরের মধ্যে এই মূল্যস্ফীতি সর্বনিম্ন বলে জানা গেছে। তবে আগস্টে গত জুলাইয়ের তুলনায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা জুলাই মাসে ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আর ২০২৪ সালের আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
বিবিএসের তথ্য থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের আগস্টে ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ, ২০২৩ সালের আগস্টে ৯ দশমিক ৯২ ও ২০২৪ সালের আগস্টে সাধারণ বা সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
বিবিএসের তথ্যানুসারে, গত জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। সে হিসেবে জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছে শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
আগস্ট মাসে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ হয়েছে, জুলাই মাসে যা ছিল ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ২০২৪ সালের আগস্টে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
এদিকে, স্বল্প আয়ের দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির হার সামান্য কমে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ৪৩ মাস ধরেই মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে পিছিয়ে রইল, যা নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মজুরি না বাড়লে ক্রয়ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন নিম্নবিত্তরা।