রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলের মাজার ঘিরে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, কবর থেকে লাশ তুলে পোড়ানো ও একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ। এই ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয়ের ৩ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ‘ইমান আকিদা রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। পূর্বঘোষিত এই সমাবেশ থেকেই উত্তেজনা ছড়াতে শুরু করে। সমাবেশ শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা নুরাল পাগলের দরবার শরিফের দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ তাদের থামানোর চেষ্টা করে। এই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উত্তেজিত জনতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। হামলায় অন্তত ৫ পুলিশ সদস্য এবং দুজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহত হন। এরপর দরবার শরিফে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়ে লুটপাট করা হয়।
শুক্রবারের এই তা-বে দরবার শরিফের অনুসারী দেবগ্রাম ইউনিয়ন পূর্ব তেনা পচা জুটমিস্ত্রি পাড়ার মো. আজাদ মেম্বারের ছেলে মো. রাশেল মোল্লা (২৮) নিহত হন। তবে রাশেল মোল্লার পরিবার এখনো কোনো মামলা করেনি বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিরু মৃধা (৪০), শাফিন সরদার (১৯), এনামুল হক জনি (৩২), অপু কাজী (২৫) এবং মাসুদ মৃধা (২৯)।
ঘটনার পর থেকেই দরবারের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং উৎসুক জনতা ধ্বংসস্তূপ দেখতে ভিড় করছেন। এলাকায় পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।