ডাকসু নির্বাচন

নারীদের ভোট পেতে অনেকে বিড়াল নিয়ে ছবি দিচ্ছেন: জাহেদ আহমদ

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অন্য সকল ডাকসু নির্বাচনের চেয়ে আলাদা। এর আলাদা তাৎপর্য আছে যা আমরা বুঝি। এটাই সুযোগ নতুন রাজনৈতিক পরিসর নির্মাণের, যেখান থেকে নিশ্চিত করা হবে আমাদের রাজনৈতিক অগ্রগতি। রাজনৈতিক স্থবিরতার আবর্তে আমরা আর ঘুরপাক খেতে চাই না।’

সম্প্রতি এক প্রশ্নের জবাবে দেশ রূপান্তর অনলাইনকে এ কথা বলেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী জাহেদ আহমদ।

এবারের ডাকসু নির্বাচন ঘিরে প্রচারণা কৌশল নিয়ে জাহেদ আহমদ বলেন, ‘প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে অ্যাস্থেটিক্সের (সৌন্দর্য্যতত্ত্ব) ব্যবহার ও নিজেদের সেভাবেই প্রেজেন্ট করবার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এটা একদিক দিয়ে ভালো, অ্যাস্থেটিক্সের নানা ডাইমেনশনের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। এটা খুব স্বাভাবিক প্রার্থীরা নিজেদের আলাদা করে চেনাবার জন্য এ ধরনের আশ্রয় নেবে। কিন্তু প্রার্থীর যোগ্যতা হবে তার জার্নি, তার ডেডিকেশন এবং সময়োপযোগী ইশতেহার। অ্যাস্থেটিক্স এক্ষেত্রে কেবল পৌঁছানোর মাধ্যম মাত্র। আমরা দেখছি, অনেক প্রার্থী যোগ্যতা আড়াল করে কেবলমাত্র অ্যাস্থেটিক্সের জোরে ভোট টানতে চাইছেন, কালচারাল ইমোশন পুঁজি করছেন, যেখানে যোগ্যতার প্রশ্ন আড়াল হয়ে যায়।’

গত ডাকসু নির্বাচনে নারী ভোট একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এবারও তাই হবে। এ বিষয়ে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের সহ-সাধারণ সম্পাদক বলছেন, ‘এবারও শুরু থেকে নানা দল, ক্যান্ডিডেটরা বিভিন্নভাবে নারীদের ভোট টানার চেষ্টা করছেন। অনেকেই বিড়াল নিয়ে ছবি দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ নিজেকে ‘বাংলার হিরো’ প্রেজেন্ট করছেন। অথচ দরকার ছিল নারীবান্ধব ইশতেহারের মধ্য দিয়ে ভোট চাওয়া। তা না করে এমন ক্যাম্পেইনিং নারীর রাজনৈতিক অসচেতনতার পালে হাওয়া দিচ্ছে কিনা, সেটা ভেবে দেখার দরকার আছে। কারো সঙ্গে আমার-আপনার অ্যাস্থেটিক সেন্স, কালচার, কালচারাল ইমোশন মিলে যাওয়াটা ক্যান্ডিডেটের যোগ্যতা না। এটা আমরা বুঝি এবং আগামীতে বুঝবো বলে আশা করি।’ 

ডাকসু নির্বাচন কেন্দ্র পরিকল্পনা জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘দলীয়করণ ও বিরাজনীতিকরণমুক্ত একাডেমিক ক্যাম্পাস নির্মাণের মধ্য দিয়ে প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী আকারে গড়ে তোলাই আমার প্রধান ইশতেহার। কথা ছিল গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংকটগুলো কী কী, কেন আমাদের আকাঙ্খা বাস্তবায়ন হয়নি, আগামীতে কিভাবে আমরা এই সংকট মোকাবিলা করব, তা নিয়ে প্রতিনিয়ত আলাপ-আলোচনা হবে সেটা হয়নি। জুলাইয়ের দায় তো আমাদের নিতে হবে, শহীদদের দায় আমাদের নিতে হবে। ফলে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংকটের পরিস্কার বোঝাপড়া ও নিজস্ব মতামত তৈরির মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষার্থী তার নিজ নিজ দায় অনুভব করবেন। এইটা নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বলছি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নানা সংকট নিরসনের কথা। শিক্ষার্থীদের জীবনকে সহজ করার কথা। কিন্তু কেন বলছি?কারণ এইসব সংকট নিরসনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা যেন দেশ ও জনগণের দায়িত্ব নেয়। আমার দেশের যেই মানুষটার জীবন এখনও আমার/আমাদের মতো সহজ হয়নি, তাদের জীবন যেন আমরা সহজ করতে পারি।’

জুলাই পরবর্তী সময়ে ট্যাগিং পলিটিক্স নিয়ে গুরুবার আড্ডার সংগঠক জাহেদ আহমদ বলেন, ‘ট্যাগিং পলিটিক্স, ভিলেইন হিসেবে দেখানোর প্রবণতা বা প্রতিদ্বন্দ্বীকে ঘায়েল করার প্রবণতা ভোটের রাজনীতিতে আমরা ভালোভাবেই দেখি, যা সামষ্টিক রাজনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে। আমাদের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, তাতে ভোটের রাজনীতিতে নামামাত্রই প্রতিযোগিতামূলক রাজনৈতিক মনস্তত্ত্ব আর কাজ করে না। আগামীর বাংলাদেশে ট্যাগ দিয়ে কারো মানবাধিকার হরণ করা যাবে না।’