নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা

ব্যারিকেড ভেঙে ঢাবিতে ফুটবল সমর্থকদের ঢল, আহত ২ শিক্ষার্থী

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ০১:২৯ এএম

ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ এর ফাইনাল উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশে প্রশাসনের জারি করা নিষেধাজ্ঞা কার্যত ভেস্তে গেছে। দোয়েল চত্বর এলাকায় স্থাপিত ব্যারিকেড ভেঙে হাজার হাজার বহিরাগত সমর্থক টিএসসি এলাকায় প্রবেশ করেন। এ ঘটনায় দুজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

রবিবার (১৯ জুলাই) রাত প্রায় ১১টার দিকে দোয়েল চত্বর মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেদ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিসি চত্বরে জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখানো বন্ধ রেখেছে।

তথ্যমতে, নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন করা ঢাবির এক নারী শিক্ষার্থী বহিরাগতদের হামলা শিকার ও জহির রায়হান রিপন নামের আরেক শিক্ষার্থী বহিরাগত মোটরসাইকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন। এতে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে কয়েকজন সমর্থক ব্যারিকেড সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে একযোগে বিপুলসংখ্যক মানুষ ব্যারিকেড ভেঙে টিএসসির দিকে অগ্রসর হন। এ সময় উপস্থিত নিরাপত্তাকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও জনস্রোতের কারণে তারা কার্যকরভাবে বাধা দিতে পারেননি। কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়।

বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে টিএসসি এলাকায় বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন ছিল। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগেই বহিরাগতদের প্রবেশ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ লক্ষে শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, শিববাড়ি ক্রসিং, ফুলার রোড ও নীলক্ষেতসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়।

এর আগে শনিবার (১৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ২০ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া অন্য কোনো অতিথির ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত যানবাহন এবং জরুরি সেবার যানবাহন-যেমন অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক ও রোগীবাহী যান, সাংবাদিক, রাইড-শেয়ার, খাবার সরবরাহকারী যান, অনলাইন শপিং সেবার যান ও অন্যান্য সরকারি যানবাহন-ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি পাবে। অন্য সব ধরনের যানবাহনের প্রবেশ ও চলাচল সীমিত রাখার কথা বলা হয়।

তবে বাস্তবে ব্যারিকেড ভেঙে বহিরাগতদের প্রবেশের ঘটনায় প্রশাসনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত