দই-চিড়ার দর নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে রিকশা মিস্ত্রিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

চট্টগ্রামে দই-চিড়ার দর নিয়ে প্রথমে তর্কাতর্কি পরে মারপিট করার জেরে মো. সাজন মিয়া (৪৭) নামে এক রিকশা মিস্ত্রিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। নগরের বাকলিয়া থানাধীন বগারবিল বলাকা আবাসিক এলাকায় রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত সাজন মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থানাধীন ভাতশালা গ্রামের এনায়েত মিয়ার ছেলে। স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে থাকতেন বাকলিয়া বগারবিল এলাকায়। সাজন মিয়া হত্যার ঘটনায় নগরের বাকলিয়া থানায় ৯জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন তার স্ত্রী হেলেনা বেগম।

পুলিশ সাজন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার দুজন হলেন, কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থানাধীন আবদুল্লাহপুর গ্রামের মো. জিল্লু রহমানের ছেলে মো. বায়েজিদ রহমান (২৭)। একই গ্রামের লায়েচ উদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম (৩৬)। মামলার এজাহার ভুক্ত বাকি সাত আসামি হলেন, গ্রেপ্তার হওয়া বায়েজিদ রহমানের দুই সহোদর মো. সাজিদ (২৪) ও সাব্বির হোসেন সানি(৩২), রিপন (৩২), কাউসার(২৪), বাহার আলী (৫০), জাহের আলী(৫২) এবং তাহের আলী (৫৫)। 

মামলার এজাহারের বর্ণনা অনুয়ায়ী, ঘটনাস্থল বাগারবিল বলাকা আবাসিক এলাকায় বাদী হেলেনা বেগমের ছোটভাই বাদশার (১৩) দই-চিড়া বিক্রির দোকান আছে। বাদশার দোকানের পাশেই ভিকটিম সাজন মিয়ার রিকশার গ্যারেজ আছে। রবিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বাদশার দোকানে দই-চিড়া খেতে যান মামলার ৯ নম্বর আসামি তাহের আলী। দই-চিড়ার দর নিয়ে বাদশার সঙ্গে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তার দিকে প্লাস্টিকের টুল ছুড়ে মারেন তাহের আলী। এক পর্যায়ে মারধর শুরু করলে তাহের আলীর হাত থেকে বাদশাকে রক্ষা করেন বাদীর স্বামী (ভিকটিম) সাজন মিয়া এবং তার ভগ্নিপতি মো. সাইফুল। এরপর বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু আধাঘণ্টা পর আসামিরা পুনরায় ঘটনাস্থলে গিয়ে সাজন মিয়াকে মারধর শুরু করেন। এক পর্যায়ে আসামি আবুল কালাম ও রিপন দুজনে মিলে সাজন মিয়াকে ঝাপটে ধরেন। এ সময় সাজন মিয়ার বুকে ছুরিকাঘাত করেন মামলার ১ নম্বর আসামি মো. সাজিদ। গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান সাজন মিয়া। 

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দীন জানান, এ ঘটনায় ভিকটিম সাজন মিয়ার স্ত্রী ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।  তবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার ৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিকটিম সাজন মিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।