স্কুলে অনুপস্থিত থেকেও বেতন তুলছেন শিক্ষক

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে এক বছর ধরে স্কুলে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও অদৃশ্য শক্তিতে নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর হচ্ছে তার। ঘটনাটি শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক দিন আগে উপজেলার মাহমুদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়। দীর্ঘদিন পদ শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষক আখতার হোসেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদ বাগিয়ে নেন। এরপর দীর্ঘদিন থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আখতার হোসেন পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর থেকে তিনি আর বিদ্যালয়ে আসেননি।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আখতার হোসেন মাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আখতার হোসেন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় বর্তমানে বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক সুলতান মাহমুদ অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের জন্য দায়িত্ব পালন করছেন।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কক্ষটি বন্ধ। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা একটি কক্ষে বসে রয়েছেন। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে কোনো তথ্য বা কথা বলতে রাজি হয়নি সহকারী শিক্ষকরা।

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক পল্লী চিকিৎসক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আখতার হোসেন সহকারী শিক্ষক থেকে ক্ষমতার দাপটে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হন। গত বছর আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে আখতার হোসেন পলাতক রয়েছেন। এরপর থেকে তিনি আর স্কুলে আসেন না। শুধু বলে মেডিকেল ছুটিতে রয়েছেন। কতদিন মেডিকেল ছুটি লাগে তার? এতে বিদ্যালয়ের দুরবস্থা তৈরি হয়েছে। কিছু রাজনৈতিক নেতাও ওই শিক্ষকের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।’

শিক্ষার্থীরা জানায়, ‘অনেকদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আখতার হোসেনকে বিদ্যালয়ে আসতে দেখেন না। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকও আসেন না; তাই বিদ্যালয়ে শিক্ষার কার্যক্রম আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। এ বছর অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ফেল করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, আখতার হোসেন মেডিকেল ছুটিতে রয়েছেন। নিয়মের মধ্যেই রয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজাদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘গত ২৬ আগস্ট মাহমুদপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। একাডেমি সুপারভাইজার সেদিন দেখিয়েছেন গত ২৫ আগস্ট পর্যন্ত খাতায় তার হাজিরা রয়েছে। শুনেছি, তিনি চিকিৎসার ছুটি নিয়েছেন। তবে এ ধরনের কোনো কাগজ আমার কাছে নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অনেকদিন ধরেই উপজেলা শিক্ষা অফিসের কোনো কাজে আসতে দেখিনি।’