দুই মাস আগে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ শেখ গোলাম মাহবুবকে আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি অবসরে চলে যাওয়ার পর অদ্যাবধি এ আদালতে বিচার কার্যক্রম চালুর বিষয়ে কোনো ফলপ্রসূ উদ্যোগ নেই। এতে বিচাপ্রার্থীদের হয়রানি ও ভোগান্তির দীর্ঘসূত্রতা বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ও আইনজীবীদের।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার দুর্গম চিলমারি চর গ্রামের আঁখি খাতুন (২৫) পারিবারিক নির্যাতনের বিচার চেয়ে মামলা করেছিলেন। সম্প্রতি এক দুপুরে কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের সামনে প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘দিনের পর দিন আদালতের নির্ধারিত তারিখে এসে কোনো প্রকার বিচারিক সেবা না পেয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে। আমার বাড়ি থেকে আদালত পর্যন্ত পৌঁছাতে কতটা প্রতিকূল অবস্থা পার হয়ে আসতে হয় তা তো আপনারা ভালোই জানেন।’
আরেক বিচারপ্রার্থী খোকসা উপজেলার প্রত্যন্ত সেনগ্রাম থেকে আসা রোজিনা খাতুন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘বিচার প্রার্থনা করে আদালতে এসে এমন ভোগান্তির শিকার হতে হবেআগে জানলে মামলা করতে আসতাম না, যা হওয়ার হতো। মরার ওপরে তো কোনো শাস্তি নেই? সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতের বিচারক নিয়োগ দিয়ে আমাদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।’
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বেঞ্চ সহকারী খুরশিদ আলম বলেন, ‘প্রায় দুই মাস হতে যাচ্ছে আমাদের স্যার না থাকায় স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম চলছে না। জরুরি প্রয়োজন হলে জেলা জজ স্যার কারও ওপর দায়িত্ব দিয়ে সেটা সম্পন্ন করেন।’
কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রায় দুই মাস হতে যাচ্ছে, নারী-শিশু কোর্টের স্যার না থাকায় বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আমাদের কিছুই করার থাকে না।’
কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আব্দুল মজিদ বলেন, ‘বিচারক শূন্যতায় বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সাক্ষ্য-শুনানি হচ্ছে না। মামলার বাদী-বিবাদীরা নির্ধারিত দিনে আদালতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে মক্কেলদের কাছে আমরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ছি।’
কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম শাতিল মাহমুদ বলেন, ‘গত ১০ জুলাই মন্ত্রণালয় থেকে যেসব বিচারকের বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছে তার মধ্যে কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক শেখ গোলাম মাহবুবও রয়েছেন। সেই থেকে বিচারক শূন্যতায় এ আদালতের বিচারিক কার্যক্রম একেবারে বন্ধ রয়েছে। এতে একদিকে বিচার বঞ্চিত হচ্ছেন বিচারপ্রার্থীরা। অন্যদিকে বিচারাধীন মামলার পাহাড় জমে যাচ্ছে। এছাড়া ওই আদালতের মামলায় যারা জামিনযোগ্য সেসব আসামি জামিন পাচ্ছেন না। এ আদালতের বিচারপ্রার্থীরা সবাই নারী ও শিশু, তারাও এখন সীমাহীন হয়রানি ও ভোগান্তিতে পড়েছে। সে কারণে অবিলম্বে এই আদালতে বিচারক নিয়োগের জন্য ইতিমধ্যে কুষ্টিয়া বারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।’