লাইনে দাঁড়িয়ে প্রার্থীদের প্রচারণায় ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এই বছর ভোট নেওয়া হচ্ছে আটটি কেন্দ্রে। 

তবে কেন্দ্রগুলোর সামনের এলাকায় প্রার্থীরা দাঁড়িয়ে লিফলেট বিতরণ করার কারণে লাইনে থাকা শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন এবং প্রবেশ পথে কৃত্রিম জট তৈরি হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, কার্জন হল, উদয়ন স্কুলসহ বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনের পরিস্থিতি এমনই লক্ষ্য করা গেছে। 

প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের হাতে নিজ দলের লিফলেট ও প্রার্থীদের তালিকা তুলে দিচ্ছেন, যার ফলে কেন্দ্রের প্রবেশমুখে ভিড় জমে যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো প্রচারণা করা যাবে না। এছাড়া ৭ সেপ্টেম্বর থেকে নির্বাচন কমিশন সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ ঘোষণা করেছে।

এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে মানবসেবা সম্পাদক এ বি জোবায়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের প্রবেশমুখে যান।

 

তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদল ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের প্রার্থীরা তাকে ‘মবস্টার’ বলে তাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, “কৃত্রিম জট তৈরি করে ফুল প্যানেলের লিস্ট দেখানো হচ্ছে। আমি প্রতিবাদ করতে গেলে তারা বাগবিতণ্ডায় জড়ায়।”

পর্যবেক্ষক হিসেবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা এবং জহুরুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ফারুক শাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, প্রার্থীদের কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং জহুরুল হক হল ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলকে আলাদা করা হয়েছে যাতে এমন জট না হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ জানান, “ভোট চাওয়ার সুযোগ নেই। প্রার্থীদের কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে থাকা অনুমোদিত নয়। অন্যথায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভোটগ্রহণ সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। ডাকসুর জন্য পাঁচ পাতার ব্যালট ও হল সংসদের জন্য এক পাতার ব্যালট ব্যবহৃত হচ্ছে। একজন ভোটারকে সব মিলিয়ে ছয় পাতার ব্যালট গুনতে হবে। ডাকসুর ২৮টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৭১ জন প্রার্থী। ১৮টি হল সংসদে ১৩টি করে পদে মোট ১,০৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অর্থাৎ ভোটারদের একসঙ্গে ৪১টি ভোট দিতে হবে।