নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

জেন-জিদের বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

এরই মধ্যে বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পুডেল ও প্রধানমন্ত্রী ওলির বাসভবনে ঢুকে পড়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানান স্থানীয় নেতারা। এরই ধারাবাহিকতায় পদত্যাগ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি।

প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী ওলি স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান সংকটের সাংবিধানিক সমাধানের পথ প্রশস্ত করার জন্য তিনি পদত্যাগ করেছেন।

এদিকে, দেশজুড়ে বিক্ষোভ তীব্র হওয়ায় নেপালি সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ভাইসেপতির বাসভবন থেকে মন্ত্রীদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট।

মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে নেপালে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ ২৬টি সামাজিক মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) প্রথমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হলেও, একপর্যায়ে তা সহিংস হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করলে সংঘাত শুরু হয়।

এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঠমান্ডুতে কারফিউ জারি করে প্রশাসন। এই আন্দোলনকে ‘জেন-জি রেভল্যুশন’ নাম দেয় বিক্ষোভকারীরা। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর দেয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় দেশটির সরকার।

এদিকে, সিভিল সার্ভিস হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক মোহন রেগমি বিবিসিকে বলেছেন, আজ মঙ্গলবারের বিক্ষোভে দুইজন মারা গেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৯০ জন।