আসন্ন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্যানেল ঘোষণা করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। গত রবিবার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির তাদের সমর্থিত প্যানেল প্রকাশ করেছে। পরদিন ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ছাত্র ফেডারেশনের সমর্থিত ‘রাকসু ফর রেডিক্যাল চেঞ্জ’ নামের প্যানেল ও বামপন্থি রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মোর্চা ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’ নামে প্যানেল করেছে। গতকাল মঙ্গলবার ছাত্র ইউনিয়নের একাংশ একটি প্যানেল দিয়েছে। যার নাম দিয়েছে অপরাজেয় ৭১-অপ্রতিরোধ্য ২৪। তবে, সবাই প্যানেল দিলেও প্রশংসা কুড়াচ্ছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল। নির্যাতিত এবং ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব সামনে রেখে তারা প্যানেল গঠন করেছে। যেখানে দলের কর্মীদের বাইরেও জাতীয় দলের ফুটবলার, ব্যান্ড দলের প্রতিষ্ঠাতা, অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা জায়গা পেয়েছেন।
প্যানেল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২৩ জন প্রার্থী রয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী প্রার্থী ৪ জন। প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী গত সরকারের আমলে ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন। প্যানেলে রাজশাহী বিভাগের শিক্ষার্থী রয়েছেন ১১ জন। রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থী আছেন ৫ জন। ঢাকা ও খুলনা বিভাগ থেকে ২ জন করে প্রার্থী আছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, বরিশাল ও ময়মনসিংহ থেকে আছেন একজন করে প্রার্থী। প্যানেলে লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ৩ ও সংগীত বিভাগ থেকে ২ জন প্রার্থী আছেন। প্যানেলে বিজ্ঞান, কলা, ব্যবসায় শিক্ষা এবং সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদের ১৮টি বিভাগ থেকে একজন করে প্রার্থী আছেন।
সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবীর শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতির দায়িত্বে আছেন। ২০২৩ সালে বিএনপির মিছিলে অংশগ্রহণ করায় ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী শাকিবুল হাসান বাকীর হাতে মারধরের শিকার হন তিনি।
বর্তমান কমিটির দপ্তর সম্পাদক নাফিউল ইসলাম জীবন। ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী। যিনি ২০২৪ সালের মে মাসে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিব ও তার অনুসারীদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হন। ছাত্রলীগ নেতারা ওইদিন নাফিউল ও তার সহপাঠী এক বন্ধুকে মাদার বখ্শ হলের ২১৫ নম্বর কক্ষে তিন ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর ও পিস্তল ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এ ছাড়া শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন বিশ্বাস এষা প্যানেলে এজিএস পদে রয়েছেন।
ছাত্রদল সমর্থিত এই প্যানেলে ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক হয়েছেন নার্গিস খাতুন। যিনি জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়। এর আগে তিনি অনূর্ধ্ব-১৮ ও ১৯ খেলেছেন। সহ-ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক মাহফুজুর রহমান শাওন। যিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টিমের গোলকিপার। সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথী। তিনি অমরত্ব ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। মহিলাবিষয়ক সম্পাদক স্বপ্না আক্তার। যিনি শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩.৮২ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক শেষ করেছেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৪ সালে ডিনস অ্যাওয়ার্ড পান। সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রেদোয়ানুল ইসলাম হৃদয়। যিনি চায়না সাউথ এশিয়া ইউথ এনভয়েজ প্রোগ্রাম-২০২৫-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। সহ-মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক নূর নবী। তিনি দৈনিক দিনকালের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি।
অন্য পদগুলো হলো সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে গাজী ফেরদৌস হাসান। মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক রাফায়েতুল ইসলাম রাবিত। সহ-মহিলাবিষয়ক সম্পাদক নুসরাত ঈশিতা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মারুফ হোসেন, সহ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক নাইমুল ইসলাম নাঈম, বিতর্ক ও সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, সহ-বিতর্ক ও সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক জিসান বাবু, পরিবেশ ও সমাজসেবা সম্পাদক এ আর রাফি খান, সহ-পরিবেশ ও সমাজসেবা সম্পাদক কুঞ্জশ্রী রায় সুলগ্ন (শুভ)। এ ছাড়া সদস্য পদে রয়েছেন মিনারুল ইসলাম মেঘ, সাইদ হাসান ইবনে রুহুল, মাহবুব মোর্শেদ ইল্লিন ও আশরাফুল ইসলাম।
প্রশংসা কুড়াচ্ছে ক্যাম্পাসে : ছাত্রদলের এই প্যানেল প্রশংসা কুড়াচ্ছে ক্যাম্পাসে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ছাত্রদলের কাছে থেকে যেটা প্রত্যাশা করেননি শিক্ষার্থীরা, সেটাই ছাত্রদল করেছে। অন্য রাজনৈতিক দল ছাত্রদলের মতো করতে পারেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাজনিন রহমান মিম বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম ছাত্রদল সাবেকদের দিয়ে প্যানেল দেবে। তবে তারা হঠাৎ একটা চমক দিল মনে হয়েছে। অন্য রাজনৈতিক দল এত ভালো করতে পারেনি।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মাঈনুল ইসলাম রাজু বলেন, অনেকে ইনক্লুসিভ প্যানেলের বয়ান দিচ্ছিলেন। তবে, তাদের থেকে ছাত্রদলের প্যানেল অধিক যোগ্যতম ব্যক্তিদের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে। যারা ইনক্লুসিভ প্যানেল দিতে চাচ্ছিল তাদের প্যানেলে যাদের প্রবেশ করানো হয়েছে, অনেক দিন আগে থেকে ক্যাম্পাসে গুঞ্জন ছিল তারা ওই রাজনৈতিক দলের জনশক্তি। আমার মনে হয়, এখন পর্যন্ত রাকসুতে সবচেয়ে দুর্দান্ত প্যানেল হয়েছে ছাত্রদলের।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে সেরা একটা প্যানেল ঘোষণা করেছি। আমাদের প্যানেলের সবাই শুধু দলীয় পরিচয়ে নয়, বরং তারা আগে থেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। শিক্ষার্থীরা আমাদের প্যানেলকে নিজেদের প্যানেল হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে।