নেপালে টানা বিক্ষোভ ও রক্তক্ষয়ী সহিংসতার পর শেষ পর্যন্ত পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। ৭৩ বছর বয়সী এই প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা কোথায় আছেন—দেশে নাকি বিদেশে—সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিধিনিষেধ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া প্রতিবাদ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভয়াবহ রূপ নেয়। আন্দোলনকারীরা কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে সরকারি স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয়, ধ্বংস করে রাজনীতিবিদদের বাসভবন ও সুপারমার্কেট। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে সরকারি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৯ জন নিহত হন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা সংসদ ভবনেও অগ্নিসংযোগ করে।
এএফপির খবরে জানা যায়, বিক্ষোভকারীরা যখন ওলির বাসভবনে হামলা চালায়, তখনই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট নিরসনের সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু তার পদত্যাগের পর থেকে ওলির অবস্থান অজানা থেকে গেছে।
রাজধানী কাঠমান্ডুর রাস্তায় এখনো পুড়ে যাওয়া গাড়ি, টায়ারের স্তূপ এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা যাচ্ছে। সেনাবাহিনী শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় মোতায়েন রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হয় এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।
৩ কোটিরও বেশি মানুষের এই হিমালয়কেন্দ্রিক দেশটিতে আকস্মিক এই সহিংসতা জনজীবনকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। বহু নাগরিক হতবাক হয়ে দেখছেন, কীভাবে দুর্নীতি ও নিয়ন্ত্রণনীতি বিরোধী আন্দোলন অল্প সময়েই রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিল।