এশিয়া কাপ শুরু হওয়ার দিন দুয়েক আগেই আরব আমিরাতের স্পিনার সিমরানজিত সিং দ্বিধায় ছিলেন। এখনকার ভারতের টেস্ট অধিনায়ক এবং টি-টোয়েন্টির সহ-অধিনায়ক শুবমান গিল তাকে চিনবেন তো! সিমরানজিতের সঙ্গে প্রথমবার গিলের দেখা যখন হয়েছিল, তখন শুবমান মাত্র ১২ বছরের এক কিশোর। সেসময় পাঞ্জাবের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখা সিমরানজিত নিয়মিত মোহালির নেটে বল করতেন শুবমানকে।
বুধবার রাতে আরও একবার ঘটলো সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। কুলদিপ যাদবের ঘুর্ণি বিষে ৫৮ রানে গুটিয়ে যাওয়া আরব আমিরাতের হয়ে পঞ্চম ওভার করতে বল হাতে পান ৩৫ বছর বয়সী সিমরানজিত। স্ট্রাইকে তখন শুবমান। এক রান নিয়ে প্রান্ত বদলান, পরের বলে সূর্যকুমারও নেন এক রান। আর তৃতীয় বলে ব্যাকফুটে ভর করে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ভারতকে ম্যাচ জেতান তিনি। ঠিক তার পরই সিমরানের দিয়ে এগিয়ে গিয়ে করমর্দন করে তাকে জড়িয়ে ধরেন শুবমান।
ম্যাচ শেষে পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাতকারে সিমরানজিত বলেন, ‘তখন গিল এত ছোট ছিল যে আমি নিশ্চিতই ছিলাম না সে আমাকে মনে রাখবে কি না। কিন্তু চার মারার পর ওর আমার কাছে এগিয়ে আসা আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার। এখানে আসা এবং শুবমানের সঙ্গে মাঠে দাঁড়ানো—সবকিছুই যেন স্বপ্নের মতো। আমি কখনো ভাবিনি, সেই নেট পার্টনারকে আন্তর্জাতিক ম্যাচে বল করবো। এমনকি আমার করা বলেই সে ম্যাচ জেতাবে। এটা আমার জন্য গর্বের, সন্তুষ্টির মুহূর্ত।’
পাঞ্জাবের মোহালি স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া সেই ক্রিকেটীয় সফরে দুজনের পথ আলাদা হয়ে গেলেও তা ফের এসে মিশলো এশিয়া কাপের মঞ্চে। ২০১৮ সালে ভারতের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতেন শুবমান। এর পর সবগুলো ফরম্যাটে জাতীয় দলে অভিষেক হয় তার। আর এখন তো তিনি ভারতের টেস্ট অধিনায়ক। অন্যদিকে সিমরানজিত কখনোই জায়গা করে নিতে পারেননি পাঞ্জাবের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে। ২০২১ সালে কভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় দুবাইয়ে থেকে যান তিনি। সেখানে জুনিয়র ক্রিকেটারদের কোচিং করানো শুরু করেন এবং পরে আবাসিকতার শর্ত পূরণ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হয়ে খেলার সুযোগ পান।
লালচাঁদ রাজপুত আমিরাতের কোচ হওয়ার পর তার সঙ্গে দেখা করেন সিমরান। নিজের দেশের এই স্পিনারের নৈপুণ্যে মুগ্ধ হয়ে জাতীয় দলে টেনে নেন এ কোচ। অবশেষে আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও আবদ্ধ হন সিমরানজিত। আর দুজন মিলে বিশ্বকে দেখালেন, ক্রিকেট শুধুমাত্র স্কোরবোর্ডের নয়, হৃদয়েরও খেলা।