শুবমানকে গোপনে ক্রিকেট শেখাতেন বাবা; হয়েছিল বাজে অভিজ্ঞতাও

শুবমান গিল এখন ভারতের টেস্ট দলের অধিনায়ক। প্রথম সিরিজেই ইংল্যান্ডে গিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এখন তিনি খেলছেন এশিয়া কাপে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ডেপুটি হিসেবে। শুবমানের এই উত্থানের পেছনে ছিল তার এবং তার বাবা লখিন্দর সিংয়ের কঠোর পরিশ্রম। এশিয়া কাপের মাঝে অ্যাপল মিউজিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শুবমান শুনিয়েছেন সেই গল্প।

ক্রিকেটজীবনের শুরুর বিষয়ে শুবমান বলেন, ‘আমার বাবা ক্রিকেটভক্ত। সময় পেলেই টিভিতে ক্রিকেট দেখতেন। এভাবে আমারও আগ্রহ তৈরি হয়। ছোটবেলায় মনে হতো, বাবা সবসময় কী দেখে? কী আছে এটার মধ্যে? সেই থেকে আমারও ক্রিকেট দেখা শুরু। তখন খুবই ছোট ছিলাম। তেমন কিছু বুঝতাম না। তবে ভালো লাগত। মনে হয়, তিন বছর বয়সে প্রথম হাতে ব্যাট নিয়েছিলাম।’

শুবমান বলেন, ‘ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে খেলতাম। বাবা বল করতেন, আর আমি ব্যাটিং। বাবাই আমার প্রথম কোচ। এভাবে বাড়িতেই আমার ক্রিকেট শুরু হয়। সাত বছর বয়সে চণ্ডীগড়ে চলে যাই। আমাদের গ্রামে খেলার তেমন সুযোগ ছিল না। ক্রিকেট অবকাঠামোও ছিল না। চণ্ডীগড় পাঞ্জাবের রাজধানী, বড় শহর। বাবা আমাকে একটা অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেন। তখন থেকে আমার আসল ক্রিকেট শেখা শুরু।’

তবে বাবাকে নিয়ে ছোটবেলায় একটা বাজে অভিজ্ঞতাও আছে শুবমানের, ‘একটা সরকারি অ্যাকাডেমিতে বাবা কোচিং করাতেন। কিছুদিন পর বাবাকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। ওখানকার কোচ ভোর ৬টা থেকে সকাল ১০টা এবং বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খেলা শেখাতেন। তাই বাবা আমাকে ভোররাত ৩টায় ঘুম থেকে তুলে প্র্যাকটিসে নিয়ে যেতেন। ভোর ৬টায় অন্যরা চলে আসার আগ পর্যন্ত সেখানে আমি বাবার কাছে ক্রিকেট শিখতাম।’

শুবমান আরও বলেন, ‘মাঝেমধ্যে হাফ-স্কুল করে চলে আসতাম প্র্যাকটিসে। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ফাঁকা সময়টায় বাবা আবার আমাকে ক্রিকেট শেখাতেন। এভাবে দুই বছর খেলা শিখেছি। এছাড়া আমার তেমন কোনো খারাপ স্মৃতি নেই। তবে অত ছোট বয়সে প্রতিদিন ভোররাত ৩টার আগে ঘুম থেকে ওঠা ছিল কষ্টকর এবং নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং। তবে আমি বাবার কাছে কৃতজ্ঞ।,আমাকে ক্রিকেটার বানাতে তিনি ভীষণ কষ্ট করেছেন।’