দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে শেষ হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা। ম্যানুয়ালি ভোট গণনা কারণে সময় লেগেছে প্রায় ৪৫ ঘণ্টা।
শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মুনিরুজ্জামান জানান, দুপুর দুটার মধ্যে ভোট গণনা শেষ হলেও চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে সন্ধ্যা সাতটার দিকে।
এবারের নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট প্রায় বারো হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় আটষট্টি শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে লড়েছেন মোট একশ সাতাত্তর জন প্রার্থী। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ছিলেন নয়জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে আটজন এবং যুগ্ম সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ষোলো জন প্রার্থী। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ছয়।
নির্বাচনে আটটি পূর্ণ ও আংশিক প্যানেল অংশ নেয়। তবে ভোট শুরুর পর কারচুপির অভিযোগ তুলে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলসহ পাঁচটি প্যানেল নির্বাচন বর্জন করে। বর্জনকারীদের মধ্যে ছিল প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের ‘সম্প্রীতির ঐক্য’, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের ‘সংশপ্তক পর্ষদ’, স্বতন্ত্রদের ‘অঙ্গীকার পরিষদ’সহ ছাত্র ফ্রন্টের একটি বিভক্ত অংশ এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
এই নির্বাচনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়। মোট ভোটার ছিলেন প্রায় এগারো হাজার আটশ সাতানব্বই জন—এর মধ্যে ছাত্র ছয় হাজারের সামান্য বেশি এবং ছাত্রী প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার। ভোটগ্রহণের জন্য ২১টি কেন্দ্রে ২২৪টি বুথ স্থাপন করা হয়েছিল।
হলভিত্তিক ভোটারের মধ্যে আল বেরুনী হলে প্রায় দুই শতাধিক, আ ফ ম কামালউদ্দিন হলে তিন শতাধিক, মীর মশাররফ হোসেন হলে চার শতাধিক, শহীদ সালাম-বরকত হলে প্রায় তিন শতাধিক, মওলানা ভাসানী হলে পাঁচ শতাধিক, শহীদ রফিক-জব্বার হলে ছয় শতাধিক, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে তিন শতাধিক, ২১ নম্বর ছাত্র হলে সাত শতাধিক, জাতীয় কবি নজরুল হলে প্রায় এক হাজার এবং তাজউদ্দীন আহমদ হলে নয় শতাধিক ভোটার তালিকাভুক্ত ছিলেন।