কৃষি বিষয়ে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী কৃষি ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৃষি বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে শুরু হয়েছে ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াড সিজন ২-এর ক্যাম্পেইন। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১১ সেপ্টেম্বর মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার কেন্দ্রীয় আব্দুল গনি সরকার উচ্চ বিদ্যালয় ও বরংগাইল গোপাল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শুরু হয়েছে প্রচারণা এবং রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।
ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তিনটি ক্যাটাগরিতে এ অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে পারবে। জুনিয়র ক্যাটাগরি: ষষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণি বা সমমান, সেকেন্ডারি ক্যাটাগরি : নবম-দশম শ্রেণি বা সমমান এবং হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরি : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী বা সমমান। এ অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্যায়ের বিজয়ীদের জন্য থাকছে ১০ লাখ টাকার গ্র্যান্ড ফান্ড, সার্টিফিকেট, পুরস্কার সামগ্রী, কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনের সুযোগ ও শিক্ষা সফর। চ্যাম্পিয়নরা পাবেন ৫০ হাজার টাকা, ল্যাপটপ শিক্ষা সফরসহ নানা উপহার। রানার্স-আপদের জন্যও থাকছে নগদ অর্থ, স্মার্ট ডিভাইস, শিক্ষা সফর ও অন্যান্য পুরস্কার।
কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও আগ্রহ দিয়েই ভবিষ্যতের টেকসই কৃষি নিশ্চিতের লক্ষ্যে এই অ্যাগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াড একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে অ্যাগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াড তরুণদের মেধা বিকাশ, উন্নত পুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষির আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করে আসছে।
১১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধি নির্বাচনের পরীক্ষা হবে ১৭ অক্টোবর। নির্বাচিত উপজেলা প্রতিনিধি শিক্ষার্থীদের নিয়ে জেলা পর্যায়ের প্রতিনিধি নির্বাচনের পরীক্ষা হবে ৩১ অক্টোবর। এরপর ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলার বাছাইকৃত শিক্ষার্থীদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে নভেম্বরের ৮ তারিখ। এ পর্যায়ে ১৩টি জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। জেলাগুলো হলো ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর এবং গোপালগঞ্জ।
অ্যাগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াড মানিকগঞ্জ জেলার টিম লিডার মাহিয়া আরমিন বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি কৃষিই বাংলাদেশের মূল শক্তি। এই অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে আমরা তরুণদের কৃষি সম্পর্কে নতুন চিন্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে উদ্বুদ্ধ করতে চাই।’ এ ছাড়া মানিকগঞ্জ জেলা অলিম্পিয়াডের সদস্য তাসমিয়া আফরিন হিমিকা বলেন, ‘এটি শুধু একটি অলিম্পিয়াড নয়, বরং কৃষি নিয়ে ভাবনার নতুন একটি ধারা। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ এবং টেকসই কৃষির দিকনির্দেশনা তরুণদের হাতে তুলে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’ প্রত্যক্ষভাবে নিবন্ধন ছাড়াও অনলাইনে অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন করা যাবে www.agriculturalolympiad.com ওয়েবসাইটে।
এ বি এম সিয়াম আহমেদ
শিক্ষার্থী, তৃতীয় বর্ষ, পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগ
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ