নরসিংদী শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ব্রাহ্মন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৭০ সালের আধাপাকা একটি ভবন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করলেও ৯০’র দশকে এসে নির্মাণ করা হয় দোতলা একটি পাকা ভবন। বিদ্যালয়টির এই ভবনটি এখন শিক্ষার্থীদের জন্য আতঙ্কের জায়গায় পরিণত হয়েছে। এক সময় এই ভবনে নিয়মিত পাঠদান চললেও বর্তমানে এর জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ভয়ে প্রবেশ করতে সাহস পান না। এতে ব্যহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। যার ফলে শ্রেণিকক্ষ সংকটে বিদ্যালয়ে পাঠদান চলছে তিন শিফটে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এখানে ৬২৫ জন শিক্ষার্থী এবং ১২ জন শিক্ষক রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে দুটি ভবন রয়েছে। এক নম্বর ভবনটি ১৯৯০ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল যা বর্তমানে পরিত্যক্ত। ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ১ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় পাঠদান চলাকালে ছাদের বেশকিছু অংশ খসে পড়ে। দীর্ঘদিন সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। সিলিংয়ের ভেতর থেকে বের হয়ে গেছে মরিচ ধরা রডও। সিলিং থেকে খসে পড়ে পলেস্তারা। ভেজা ও নষ্ট হয়ে যাওয়া দেয়ালে জমেছে ছত্রাক। এরই মধ্যে জানালাগুলো খুলে পড়েছে, ফলে বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষগুলোতে পানি জমে যায়।
বিদ্যালয়ের পাশে ২০০৯ সালে নির্মিত একটি নতুন ভবনেই বর্তমানে কোনো রকমে চলছে সব ক্লাস ও অফিস কার্যক্রম। আগে ২ শিফটে ক্লাস হলেও জায়গার অভাবে এখন পাঠদান করতে হচ্ছে ৩ শিফটে। স্থান সংকটে তাতেও গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীরা বসতে পারছে না।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাহির আলম বলেন, আমাদের একটা বেঞ্চে চার থেকে পাঁচজন করে গাদাগাদি করে বসতে হয়।
চন্দিকা ভদ্র নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘স্কুলে পাঠদানের জন্য অন্তত ১৩টি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন। অথচ দুই নম্বর ভবনে রয়েছে মাত্র ৫টি শ্রেণিকক্ষ। ফলে প্রতিদিনই শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ নিয়ে পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে। আর জরাজীর্ণ ভবনের কারণে আমরা চিন্তায় থাকি কোন সময় জানি দুর্ঘটনা ঘটে।’
ব্রাহ্মন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিনা খাতুন বলেন, ‘ভবনের অবস্থা খুবই নাজুক, এটি দেবে গেছে। এটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা এখানে ক্লাস বন্ধ রেখেছি। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে আমাদের শিক্ষকরা পড়েছে বিপাকে। ৩ শিফটে ক্লাস নেওয়ায় অতিরিক্ত সময় দিতে হচ্ছে তাদের, যা মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি করছে। আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করালেও সময় স্বল্পতা ও স্থান সংকটে বাচ্চাদের পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে।
বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সদস্য চিত্তরঞ্জন মালাকার বলেন, আমরা বারবার কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান পাইনি। যার ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।
নরসিংদী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিরঞ্জন কুমার রায় বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ ভবন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনা হবে বিদ্যালয়টি। পুরনো ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নিলামে বিক্রি করে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হংবে।