ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে লড়াইয়ের ভেতর ৫ লড়াই

এক বছরেরও বেশি সময় পর আবার মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান। বদলে গেছে অনেক কিছু। রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির অবসরের পর সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারত টি-টোয়েন্টিতে ৮৫ শতাংশ ম্যাচ জিতে উঠেছে ভয়ঙ্কর এক দলে। অপরদিকে, বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর পাকিস্তান নতুন রূপে হাজির হয়েছে। বাবর আজম আর মোহাম্মদ রিজওয়ান আর নেই, এখন নেতৃত্বে সালমান আলি আগা।

রবিবারের হাই-ভোল্টেজ দ্বৈরথে নজর কাড়তে পারে এমন পাঁচটি ম্যাচ-আপ—

শুভমান গিল বনাম শাহীন শাহ আফ্রিদি

প্রথমবারের মতো ভারতীয় সহ-অধিনায়ক ও পাকিস্তানের পেস সেনানী মুখোমুখি হচ্ছেন টি-টোয়েন্টিতে। শাহীন ইনসুইং ডেলিভারিতে ভয়ঙ্কর, বিশেষ করে শুরুতে ডানহাতি ব্যাটারের সামান্য ভুলের সুযোগ নিয়ে নেন সহজেই। তবে গিলের রেকর্ডও মন্দ নয়। ১৫ টি-টোয়েন্টিতে বাঁহাতি পেসারদের বিপক্ষে ৯২ বল খেলে করেছেন ১৫৭ রান, স্ট্রাইক রেট ১৭০’র ওপরে। মাত্র দুইবার আউট হয়েছেন। কিন্তু শাহীনের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ হবে ভিন্ন মাত্রার।

জাসপ্রিত বুমরা বনাম সাইম আয়ুব

পাকিস্তানি ক্রিকেটে সাইম আয়ুব এখন আলোচিত নাম, সাহসী শট খেলার জন্য। তার বিখ্যাত ‘নো-লুক সিক্স’ ইতোমধ্যেই চর্চিত। তবে বিশ্বের সেরা ফাস্ট বোলার বুমরার বিপক্ষে ১৪০ কিমি+ গতির বল সুইং করলে কতটা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেন, সেটাই বড় প্রশ্ন।

কুলদীপ যাদব বনাম ফখর জামান

ভারতের সবচেয়ে ধূর্ত টি-টোয়েন্টি স্পিনার বনাম পাকিস্তানের অনিশ্চিত কিন্তু ভয়ংকর বাঁহাতি ওপেনার। চায়নাম্যান বোলার কুলদীপের গুগলি (যেটি বাঁহাতির দিকে ঢোকে) ফখর কিভাবে সামলান, তা অনেকটাই বলে দেবে পাকিস্তানের ব্যাটিং কেমন হবে। পরিসংখ্যান বলছে, ৩০১টি টি-টোয়েন্টিতে ফখর মাত্র ১৫ বল খেলেছেন বাঁহাতি লেগ-স্পিনারের, করেছেন ২১ রান, আউট হয়েছেন একবার। অভিজ্ঞতার অভাবই তাকে বিপদে ফেলতে পারে।

অভিষেক শর্মা বনাম আবরার আহমেদ

ভারতের নতুন টি-টোয়েন্টি তারকা অভিষেক শর্মা পরিচিত ক্লিন-হিটার হিসেবে। লেগ-স্পিনারের বিপক্ষে তার পরিসংখ্যান ভয় ধরানোর মতো। গত দুই বছরে (দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে) লেগ-স্পিনারের ৫১ বল খেলে করেছেন ১৫১ রান, স্ট্রাইক রেট প্রায় ৩০০! ফলে আবরার আহমেদকে অত্যন্ত সতর্কভাবে ব্যবহার করতে হবে, বিশেষত যদি অভিষেক পাওয়ারপ্লের পরও টিকে যান।

হাসান নওয়াজ বনাম বরুণ চক্রবর্তী

পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলের নতুন তারকা হাসান নওয়াজের স্ট্রাইক রেট ১৬১’র ওপরে। তবে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই রিস্ট স্পিনের বিপক্ষে দুর্বলতা ধরা পড়েছে। সম্প্রতি শারজা ত্রিদেশীয় আসরে রশিদ খান ও নুর আহমেদের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে দুবারই আউট হয়েছেন। বল হাত থেকে পড়ার সময় পড়তে না পারায় সমস্যায় পড়েন তিনি। বরুণ চক্রবর্তীর ওভার-স্পিন করা বল দেরিতে ডিপ করে ও বাড়তি বাউন্স তৈরি করে—যা হাসানের জন্য বড় পরীক্ষাই হতে চলেছে।