মাসুদ আল মামুনের পাঁচটি কবিতা

১. ব্যবধান

তুমি ভোরে দাঁড়ালে, আমি দাঁড়ালাম সন্ধ্যায়। তুমি বললে আমাদের ব্যবধান একটিমাত্র দিন। আমি বললাম আমাদের ব্যবধান একটিমাত্র রাত...
তুমি সূর্যকে ডাক দাও, সূর্য উঠে যায়। আমি ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদকে দেখি, চাঁদ কোথাও দড়ি না পেয়ে মরাগাঙে ডুবে যায়।
আমরা এইভাবে থাকি, আমাদের ব্যবধান মেপে মেপে প্রতিবার সারা হয় পৃথিবীর আহ্নিক। আমাদের আসে না নরওয়েজিয়ান নাইটস; সূর্য যেখানে আচমকা মরমিয়া ক্যান্ডল।

২. শীতাতপ বাসনা

ব্যথার বাষ্পগুলো জড়ো করলেও জল হয়। সেই জল 
একটা ফাঁপা মেয়ে-পুতুলের ভেতরে ভরে ফ্রিজে রেখে দিয়েছি...
ডালা খুললে ডিপফ্রিজিংয়ে রাখা কাঁচা মাংসের পাশে একটা বরফের মেয়ে পাওয়া যাবে। 
একটু পর, আড্ডাবাজ বন্ধুরা চলে গেলে সেই ফ্রিজটা খুলব।

৩. শীতের জামা

একজন আধবয়সী মা ছাতিমগাছটার তলে কার্তিকের বিকেল কাটায়
একটা সোনামুখি সুঁইয়ের টানেলে পাঁচরঙা সুতার লরিগুলো দৌড়ে বেড়ায়
পর্ণমোচী শালবন থেকে একটা ধলাঠুঁটি হরিয়াল ডাকে
পাকা রূপশাইল ধানের জমি থেকে আসে মৌতাত ঘ্রাণ...
আমি তখন অন্য গ্রহে, শীতে জমতে থাকি; মনে পড়ে-
দুটো উলের বল গড়িয়ে শেষ হলে পৃথিবীতে শীতকাল নামে; জামার বুনন শেষ হয়
কিন্তু সেসব জামা আমাকে পায় না
আমি তখন অন্য গ্রহে, বরফের মমি হয়ে বসে থাকি


৪. ব্ল্যাক মিউজিকের রাতে

- ওয়ার্ডেন, এখনো কী করো?
- কুয়াশার প্যারাট্রুপ বেয়ে তারা নামা দেখি, দূরপাল্লার বাসের চাকায় তারাদের পিষ্ট হওয়া দেখি। আহত তারাদের শুশ্রূষা দিই; হিম তারাদের মর্গে পাঠাই। 
- ওয়ার্ডেন, আমি এখনো বেঁচে আছি কি?
- তোমার রক্তক্ষরণ এখনো থামে নাই, সুতো ফুরিয়েছে বলে সতেরোটা সেলাই   
                            এখনো বাকি…

৫. সায়াহ্নে এসে

আজীবন অপছন্দের গিটারে আঙুল ফেলতেই ছয়টা আলাদা স্ট্রিং ছয়টা একতারা হয়ে একত্র বেজে উঠলো। দুপুরে যে হলুদ শাড়িটি মেলে দিয়েছিলে ছাদে, সন্ধ্যায় দেখলাম গেরুয়া রঙা হয়ে আবৃত করেছে ছয়জন বাউলের নিষ্কাম দেহ…
তুমি সন্ধ্যায় ঠোঁট ডুবিয়ে দিয়েছো মাউথ-অরগানে; আর গিটারে যার আঙুল ছোঁয়ালেই বেজে উঠে ছয় জন বাউল, বলো, কোন্ ভাবে হয় এমন ভিন্ন যন্ত্রের সহবাদন?

কবি পরিচিতি: মাসুদ আল মামুনের জন্ম ৯ জুন, ১৯৮৮। কিশোরগঞ্জে। পড়েছেন নটরডেম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে কর্মরত।