জিললুর রহমানের পাঁচটি কবিতা

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:২২ পিএম

১. অনিদ্রা

তোমার অনুপস্থিতি মানে এক বড়ি ডরমিকাম
অথবা বিনিদ্র রাত অন্তহীন ভাবনার
কেবল সুঘ্রাণটুকু পাশের বালিশ থেকে নেচে নেচে ওঠে
তোমার চুলের ঘ্রাণ, ঘাম ও পারফিউম
সব আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধে
কেবল দু’চোখে আর কিছুতেই নিদ্রা নামেনা।

২. নাম-ঠিকানার তাস

নামগুলো সব মিলে মিশে থাকে
পরিচয় ধাম তাও' টোকা আছে

সুখদুখ-কথা চুমু হয় নাকি
পকেটে ঢুকিয়ে বেখেয়ালে থাকি

সংখ্যায় বেশ বেড়ে-টেড়ে গেলে
কোনও একদিন ছুঁড়ে দিই ফেলে

চুপ যত সাব-অল্টারনেরা
ধুলায় মথিত মরে দলিতেরা

৩. ঠোঁট

তোমাকে বুকের ভেতরে
তোমাকে কোলের উপরে
তোমাকে চোখের ভেতরে আমি রাখি।
তুমি আমাকে ঠোঁটের আগায় তুলে রাখ।
আমি সেই ঠোঁটে চুম্বন এঁকে দিই।

৪. যা তুমি চেয়েছো

যা তুমি চেয়েছো,
চির উদাসীন থাকি চতুষ্পার্শে
সুন্দরের দিক থেকে মুখ
ফিরিয়ে নিয়েছি, তবু
পৃখিবীর কোথাও নামেনি নীরবতা।

যা তুমি চেয়েছো,
বাতাসের সাথে কিংবা
কল্পনাপ্রসূত শত্রুর বিরুদ্ধে যত
বিশোদগার তোমার, আমি তার
চিরস্থায়ী সমর্থক হই, তবু
পৃথিবীর কোথাও নামেনি নীরবতা।

যা তুমি চেয়েছো, বন্ধুহীন আড্ডাহীন
আনন্দবিহীন এক মগ্ন জীবন যাপন
করে যাচ্ছি সন্তের মতোন, তবু
পৃথিবীর কোথাও নামেনি নীরবতা।

যা তুমি চেয়েছো তার খেসারত
দিতে দিতে জীবনের সব রস
ঝরে গেল। আর কতো অনর্থক
তোমার সুরেই যাব সুরটি মিলিয়ে!
জানি, পৃথিবীতে কোনো দিনই
নামবে না নীরবতা।

৫. আনন্দ নগর-২

চিরচেনা খাদের বাঁদিকে নদী কর্ণফুলী
বহে চলে এঁকেবেঁকে দূরে সাপিনী রূপ মেলি

দক্ষিণে কালো মেঘদল প্রবল ভঙ্গিতে-
কোথাওবা সাম্পান-মাঝি মনসা বন্দিছে

কাঁশফুল মলিন চেহারা ব্যথিত বৈরাগী
ধেয়ে আসে ঢেউ ঠেলে ঠেলে যে কালবৈশাখী

এ সময়ে অমা চারিদিকে সকলে শঙ্কিত
সিগনাল না মেনে মাঝিরা সাগরে কম্পিত

ঢেউগুলো পাহাড়-প্রমাণ ভীষণ তড়পায়
উদ্ধারে সেবক যুবক দৃপ্ত নির্ভয়

আমি শুধু পলক না ফেলে তাকাই ওই ছাদে
লাল শাড়ি দুলছে প্রবল কখন দড়ি ছেঁড়ে

অপেক্ষা-প্রহর গুনছি উড়বে কবে শাড়ি
উড়ে উড়ে সুবাস তোমার আনবে বয়ে বাড়ি

কবি পরিচিতি: জিললুর রহমানের জন্ম ১৬ নভেম্বর ১৯৬৬, চট্টগ্রাম শহরে। আশির দশকে লেখালেখির সূচনা। মূলত কবি, নিবন্ধ এবং অনুবাদকর্মও করেন। পেশায় চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষক। নাজিম হিকমতের রুবাইয়াৎ তিনিই প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন। কবিতার ভাঁজপত্র: ক্ষয়িষ্ণু চাঁদের যৌবন, কাব্যগ্রন্থ: অন্যমন্ত্র, শাদা অন্ধকার, আত্মজার প্রতি, শতখণ্ড, ডায়োজিনিসের হারিকেন, গদ্য: অমৃত কথা, উত্তর আধুনিকতা: এ সবুজ করুণ ডাঙায়, অনুবাদ: আধুনিকোত্তরবাদের নন্দনতত্ত্ব: কয়েকটি অনুবাদ, নাজিম হিকমতের রুবাইয়াৎ, এমিলি ডিকিনসনের কবিতা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত