ইইউ রাষ্ট্রদূত বললেন

সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মনে করে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র উত্তরণের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন। ইউরোপের ২৭টি দেশের এই সংস্থার বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার গতকাল সোমবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ফরমার অ্যাম্বাসেডরস (এওএফএ) আয়োজিত বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউর সম্পর্কবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। এওএফএ-এর সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আল হাসান এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন রাজনৈতিক উত্তরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে ইইউ অন্তর্বর্তী সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

মাইকেল মিলার বলেন, ‘আগামী বছর নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। ইইউ বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে।’

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মাইকেল মিলার বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তিনি প্রত্যাশা ও আকাক্সক্ষা লক্ষ করেছেন। এখন তাদের প্রত্যাশা পূরণের সময় এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, উন্নয়ন সহযোগীসহ সব পক্ষের এখন তরুণদের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করা উচিত। বিদেশি বিনিয়োগের স্বার্থে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইউরোপের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। যেকোনো বিনিয়োগকারী তার বিনিয়োগের নিরাপত্তার জন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ চান।’

বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউর সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রসঙ্গে মিলার বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো মানবাধিকার, উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং বাকস্বাধীনতা। ভবিষ্যতেও এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ থেকে ইইউ দেশগুলোতে দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী পাঠানোর বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইইউ সবসময় কর্মীদের বৈধ উপায়ে যাওয়ার পক্ষে। মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউর সামরিক ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নাগরিকদের স্বেচ্ছায় ও শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দেশে প্রত্যাবাসনের ওপরও জোর দেন।