পাকিস্তানের চক্ষুশূল কে এই ম্যাচ রেফারি পাইক্রফট?

এশিয়া কাপে গত রবিবার পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারানোর পর বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ভারতীয় দল। ম্যাচ শেষে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও তার সতীর্থরা পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করেননি। সূর্যকুমার এই জয় উৎসর্গ করেন ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে। এই সিদ্ধান্ত আসে কাশ্মীরের পাহালগামে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার প্রেক্ষিতে।

এই ঘটনার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। তাদের দাবি, ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট টসের সময় দুই অধিনায়ককে করমর্দন না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ কারণে আইসিসির জেনারেল ম্যানেজার ওয়াসিম খানের কাছে পাইক্রফটকে চলমান এশিয়া কাপ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

কিন্তু কে এই পাইক্রফট? জিম্বাবুয়ের সাবেক ক্রিকেটার অ্যান্ডি পাইক্রফট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একসময় আলোচিত ছিলেন। তার ক্যারিয়ার যদিও সংক্ষিপ্ত—মাত্র তিন টেস্ট ও ২০ ওয়ানডে—তবুও তিনি উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স রেখে গেছেন। অস্ট্রেলিয়ার ‘বি’ দলের বিপক্ষে ১০৪ রানের ইনিংস ছিল তার ক্যারিয়ারের সেরা পারফর্মেন্স। প্রতিপক্ষ দলে ছিলেন শেন ওয়ার্ন, স্টিভ ওয়াহর মতো কিংবদন্তিরা।১৯৯২ সালে ভারতের বিপক্ষে হারারে টেস্টে অভিষেক হয়েছিল পাইক্রফটের।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে পাইক্রফট ক্রিকেট প্রশাসন, কোচিং ও নির্বাচক হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ এবং পরবর্তীতে জাতীয় দলের কোচ ছিলেন। তবে ২০০৩ বিশ্বকাপের সময় দল নির্বাচনে বিরোধের কারণে কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। বর্তমানে পাইক্রফট আইসিসির অন্যতম অভিজ্ঞ ম্যাচ রেফারি। ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১০৩টি টেস্টে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পাইক্রফট ক্রিকেট ইতিহাসের চতুর্থ সর্বাধিক অভিজ্ঞ ম্যাচ রেফারি। ভারতের সঙ্গেও তার একটি বিশেষ যোগসূত্র আছে। ১৯৯২ সালে হারারে টেস্টে অভিষেকেই ভারতের বিপক্ষে ৩৯ ও ৪৬ রান করেছিলেন তিনি। ২০২৪-২৫ মৌসুমে ভারতীয় দলের অস্ট্রেলিয়া সফরে নিতিশ কুমার রেড্ডি নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছিলেন; সেই ম্যাচের রেফারি হিসেবে ছিলেন পাইক্রফট।