জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন

গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরায়েল

জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গণহত্যামূলক কাজের পাঁচটি শর্তের চারটিই পূরণ করেছে ইসরায়েল। তদন্তকারীরা বলেছেন, এতে উসকানি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ৭২ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের হত্যা, তাদের গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করা, ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করার জন্য পরিকল্পিত পরিস্থিতি তৈরি করা এবং প্রজনন রোধ করার মতো কাজগুলো করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের বাড়িঘর, আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ অঞ্চলে বোমা হামলা চালিয়েছে। নিহতদের অর্ধেকেরও বেশি নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ।

এতে আরও বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিরা নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও সাংস্কৃতিক নির্মূলের শিকার হয়েছে। ইসরায়েল গাজায় অবরোধ আরোপ করে খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ ও চিকিৎসা সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে এবং ফিলিস্তিনিদের অনাহারে রেখেছে। ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করার জন্য এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, প্রতিবেদনটি বিকৃত ও মিথ্যা। জেনেভায় ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘের অনুসন্ধানের নিন্দা জানিয়ে একে ভুয়া ও মানহানিকর অভিযোগ বলে উল্লেখ করেছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৬৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার জনসংখ্যার বেশিরভাগই বাস্তুচ্যুত। ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়েছে গাজায় ৯০ শতাংশ বাড়িঘর।