শিক্ষার্থীদের মারধর, প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে অবরোধ

নোয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও বহিরাগতদের দিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর প্রধান শিক্ষকের অপসারণ চেয়ে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি করেছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে এই কর্মসূচি পালন করে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। এ সময় সড়কের দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বন্ধ হয়ে যায় গাড়ি চলাচল। দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকার পর বেলা সাড়ে ১২টায় স্থানীয় ছাত্র প্রতিনিধি, পুলিশ ও সেনাবাহীনির মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে উঠে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মাহমুদ রিয়াদ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে তার কার্যালয়ে ডাকেন। তিনি তাকে নিয়মিত ক্লাসের বাইরে শিক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাস (কোচিং) নেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ সময় শিক্ষিকা ক্লাস নিতে অপারগতা জানালে প্রধান শিক্ষক তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শুধু ওই শিক্ষিকা নন, বিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রধান শিক্ষকের দুর্ব্যবহারের শিকার। এর আগে এক শিক্ষিকা প্রধান শিক্ষকের দুর্ব্যবহারে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন। এ বিষয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বহিরাগত দিয়ে মারধর করানোর অভিযোগ উঠেছে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। 

আন্দোলনে অংশ নেওয়া দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত নাহিয়ান জানান, আমরা আজ সকালে যখন সবাই স্কুলে জড়ো হচ্ছিলাম তখন প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে স্কুলের দপ্তরি অর্জুন সরকার, কম্পিউটার অপারেটর ইখতিয়ার সহ বহিরাগত ৫/৬ জন আমাদের উপর হামলা করে। আমাদের লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করে। এতে আমিসহ আমাদের অনেকে আহত হয়। স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলে হামলা করার ফুটেজ পাওয়া যাবে।

দশম শ্রেণীর আরেক শিক্ষার্থী মো. তামিম বলেন, স্কুলের ভেতর বহিরাগত সন্ত্রাসীদের এনে আমাদের উপর হামলা করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নিজে এসব বহিরাগতদের ভাড়া করে এনেছেন। আমাকে লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করেছে।

আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা এমন শিক্ষকের কাছে কি শিখবো যিনি নিজের শিক্ষার্থীদের মারধর করাতে গুণ্ডা-পাণ্ডা আনতে হয়?’ 

এ বিষয়ে জানতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাহমুদ রিয়াদের মুঠোফোনে ফোন করে গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দিলে তিনি সংযোগ কেটে দেন। তারপর একাধিকবার চেষ্টা করেও তার কোন মন্তব্য নেওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ঘটনাটি বিব্রতকর। শিক্ষার্থীদের উপর বহিরাগত দিয়ে যদি হামলা হয়ে থাকে তবে বিষয়টি ন্যাক্কারজনক। আমি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কমিটির প্রধান মো. ফাহিম হাসান খান বলেন, শিক্ষার্থীদের উপর হামলার একাধিক বক্তব্য পেয়েছি ও বিষয়টির একাধিক প্রমাণও দেখিয়েছে তারা। আমি এ বিষয়ে তদন্ত শেষে রিপোর্ট জমা দিবো।