পরীক্ষার উত্তরপত্রে প্রশ্নোত্তর না লিখে শিক্ষককে "আব্বু" সম্বোধন করে তাকে কয়টা 'নাম্বার' দেওয়ার আকুতি জানিয়েছে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী। ছাত্রীর হাতের লেখা ঐ উত্তরপত্রের ছবি স্থানীয়ভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে আজ বুধবার (৮ জুলাই) দিনভর হাতিয়ায় এ ব্যাপারে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার এক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। ঐ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে ছাত্রীর উত্তরপত্রে তার লেখা অংশটির ছবি পোস্ট করেন।
ভাইরাল হওয়া ঐ পোস্টে তিনি (শিক্ষক) লিখেছেন, "আমার স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীর অবস্থা দেখুন"। শিক্ষকের ফেইসবুক পোস্টে প্রকাশিত ঐ ছাত্রীর উত্তরপত্রে তার অসহায়, করুন ও সহজ-সরল সরল স্বীকারোক্তি, কিছু শিখা হয়নি, তাই পরিক্ষার খাতায় কিছু লিখতে পারলাম না প্রকাশ পেয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের উত্তর না দিতে পেরে ছাত্রীটি নম্বর পাওয়ার আশায় শিক্ষককে "আব্বু" সম্বোধন করে তাকে( ছাত্রীকে) কিছু নম্বর দেওয়ার জন্য করুনভাবে আকুতি জানিয়েছে। সে পরীক্ষার খাতায় তার হাতের লিখায় শিক্ষককে দুইবার স্যার ও পাঁচবার আব্বু ডেকেছে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা শব্দটি লিখা থাকলেও সে পরীক্ষা বানানটিও ভুল লিখেছে।
উত্তরপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে স্থানীয় নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই ঐ ছাত্রীর লেখাপড়ায় চরম দুর্বলতা ও অনীহা, ভাষাজ্ঞানের অভাব এবং শিক্ষকদের পাঠদানের যথার্থতা ও তদারকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ বলেছেন, এটি ব্যক্তি নয়, বরং হাতিয়ার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার মানের এক বিবর্ণচিত্র।
এ ব্যাপারে হাতিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আ.ন.ম. হাছান বলেন, একটি উত্তরপত্র দেখে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। তবে এমন ঘটনা উদ্বেগের বিষয়। শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে'।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে আলাপকালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় (৭ জুলাই) সাংবাদিকদেরকে বলেন, ছাত্রীর ঐ উত্তরপত্রটি শিক্ষার বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছি। কাউকে হেয় করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি দূর করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত: ঐ শিক্ষক নিজেও তার লিখা সাত শব্দের ফেইসবুক পোস্টে একটি শব্দের বানান ভুল লিখেছেন। তিনি শ্রেণিকে শ্রেণী লিখেছেন। তবে মঙ্গলবার রাত্রের পর থেকে ঐ শিক্ষকের মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষাবিদগন ও সচেতন মহল বলেন, একটি উত্তরপত্রকে কেন্দ্র করে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করা সমীচীন নয়। তবে এমন ঘটনা শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি, পাঠদানের মান এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি এগুলো প্রভৃতি নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের মৌলিক লেখাপড়ার দক্ষতা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকগন, অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী নির্বাহী পরিচালক আবদুর রহমান খান